ভবানীপুরে মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু! ‘৩০ হাজারে হারবেন দিদি’, হুঙ্কার বিরোধী দলনেতার

নন্দীগ্রামের মহাযুদ্ধের পর এবার নজর হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে। সোমবার সকাল থেকেই ভবানীপুরের অলিগলিতে টহল দিচ্ছেন দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। বুথে বুথে পরিদর্শনের মাঝেই একে অপরের বিরুদ্ধে চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। একদিকে শুভেন্দুর গলায় জয়ের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে মমতার গলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ।

শুভেন্দুর হুঙ্কার ও সৌজন্যের ছবি:
সকাল থেকেই চেতলার বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বের হন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মেজাজে থাকা শুভেন্দু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাফ জানান, “এবার ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত ৩০ হাজার ভোটে হারবেন। কোনো গুন্ডামি বা ভয় দেখিয়ে ভোট নিতে দেওয়া হবে না।” তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেও এক সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ে চেতলার বুথে। সেখানে ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায় শুভেন্দুকে।

সারারাত জেগে মমতা-অভিষেক:
অন্যদিকে, ভবানীপুরের বুথে বুথে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন সকালেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটান তিনি। মমতা অভিযোগ করেন, “বাইরে থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা বিজেপির নির্দেশে কাজ করছেন। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের ছেলেদের অন্যায়ভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও বাহিনী।” সেই সঙ্গে তিনি আবেগী সুরে বলেন, “পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে অভিষেক আর আমি সারারাত জেগে ছিলাম।”

চেতলায় ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী:
ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হানা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এদিন সকালেই চেতলায় গিয়ে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটারদের ভয় দেখাতে এবং তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভাঙতে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও বাহিনীকে ব্যবহার করছে বিজেপি। যদিও বিজেপি এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত ভবানীপুরের ভোট ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy