লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলাজুড়ে চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি। আর সেই নজরদারিতেই এবার বড়সড় সাফল্য মিলল উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে। শনিবার বিকেলে পুলিশের সঙ্গে যৌথ তল্লাশিতে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি থেকে উদ্ধার হল কয়েক লক্ষ নগদ টাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত সংলগ্ন এই মহকুমায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল কোলুতলা পয়েন্টে?
পুলিশ ও নির্বাচনী আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা এলাকার কোলুতলা SST (Static Surveillance Team) পয়েন্টে রুটিন তল্লাশি চলছিল। নাকা চেকিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমান্ডার শুক্লেশ্বর রায় ও তাঁর টিম, হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট। সেই সময় একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়ি (WB25U/6916) আসতেই সন্দেহ হয় জওয়ানদের।
গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল।
উদ্ধার কত টাকা?
হিসাব কষে দেখা যায়, ওই গাড়ি থেকে মোট ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে ছিল:
৫০০ টাকার নোট: ৬৯৯টি
২০০ টাকার নোট: ৪৭টি
১০০ টাকার নোট: ৯৬টি
কে এই রাজু দত্ত? কেন মিলল না নথিপত্র?
গাড়িতে থাকা ব্যক্তির নাম রাজু দত্ত। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা এলাকায়। বিপুল পরিমাণ এই নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দাবি করেন, এই টাকা বিভিন্ন কাপড়ের দোকান থেকে সংগ্রহ করা ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন তাঁর কাছে ওই টাকার স্বপক্ষে বৈধ নথিপত্র চাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রাজু বাবু কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন হওয়ায় উদ্ধার হওয়া সমস্ত টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সিজার মেমো প্রস্তুত করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই টাকার উৎস ও গন্তব্য কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখতে আয়কর দফতরকে খবর দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এডিটরের নোট: ভোটের আবহে কালো টাকার লেনদেন বা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা রুখতে নির্বাচন কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জের এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল যে, কোনোভাবেই নজর এড়ানো সম্ভব নয়। এই উদ্ধার হওয়া টাকার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক যোগ আছে কি না, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ।





