দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়! পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরে চীনে পৌঁছেছেন। এই সফরকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হিসেবে দেখছে না আন্তর্জাতিক মহল; বরং একে দেখা হচ্ছে পাকিস্তানের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে অক্সিজেন দেওয়ার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে।
সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘সিপিইসি’: জারদারির এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হলো চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (CPEC)-কে পুনরুজ্জীবিত করা। গত কয়েক বছরে নানা কারণে এই প্রকল্পের গতি ধীর হয়ে গিয়েছিল। এবার জারদারি চাইছেন:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি: চীনের কাছ থেকে নতুন করে বিশাল অংকের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয় পর্যায়: সিপিইসি-র দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ দ্রুত শুরু করা, যা মূলত শিল্পায়ন ও কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর জোর দেবে।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও নিরাপত্তা: দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং আফগানিস্তান সীমান্তে অস্থিরতার মাঝে চীন ও পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা: জানা গেছে, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে নতুন সামরিক চুক্তি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
আর্থিক সহায়তা: পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার যখন তলানিতে, তখন চীনের কাছ থেকে বড় কোনো বেল-আউট প্যাকেজ বা ঋণ মকুবের আশ্বাস পাওয়া জারদারির অন্যতম লক্ষ্য।
ভারতের ওপর প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও পাকিস্তানের এই ‘অল-ওয়েদার’ বন্ধুত্ব এবং সিপিইসি-র সম্প্রসারণ ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে এই করিডোর যাওয়ায় নয়াদিল্লি প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে।
উপসংহার: জারদারির এই সফর কি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে পারবে? নাকি চীনের ঋণের জালে আরও জড়িয়ে পড়বে ইসলামাবাদ? তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সবচেয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক আপডেটের জন্য সঙ্গে থাকুন।





