বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে চলা অস্থিরতা এবং দল ভাঙার জল্পনার মাঝেই ফের রাজপথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই (Y) চ্যানেলে এক মেগা ধর্না কর্মসূচি পালন করল জোড়াফুল শিবির। একগুচ্ছ শর্ত ও টানাপোড়েনের পর আয়োজিত এই মঞ্চ থেকে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার রাজনীতি’র অভিযোগ তুললেন নেত্রী।
মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ: ওয়াই চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন, ইডি-সিবিআই দিয়ে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের দল বদলাতে বাধ্য করা হচ্ছে। নেত্রীর কথায়, ‘‘আমাদের বিধায়ক-সাংসদদের ভয় দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই জবরদস্তিমূলক ‘বুলডোজার’ রাজনীতি আমরা বরদাস্ত করব না। আমি কারও সুদিনে না হোক, দুর্দিনে পাশে আছি। বিজেপিকে হঠানোর লড়াই জারি থাকবে।’’
পুলিশের উদ্দেশে কড়া বার্তা: ধর্নায় বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে এদিন মমতা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘যারা ধর্নায় যোগ দিতে আসছেন, তাঁদের ঢুকতে দিন। না হলে নবান্ন, লালবাজার থেকে সব থানা ঘেরাও হবে।’’ তবে পরক্ষণেই তিনি জানান, তিনি পুলিশকে ব্যক্তিগতভাবে দোষ দিচ্ছেন না, কারণ তারা ওপরতলার নির্দেশ পালন করতে বাধ্য।
তৃণমূল কি সত্যিই ‘হাইজ্যাক’ হয়েছে? বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে TMC-র অন্দরে ফাটল ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘‘তৃণমূল হাইজ্যাক করে নিয়েছে একটি কর্পোরেট সংস্থা (আই-প্যাক)।’’ একইসঙ্গে দলীয় বৈঠকে বিধায়কদের হাজিরার সংখ্যা ক্রমেই কমে আসায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্বেগ বাড়ছে। ৬ মে যেখানে ৭১ জন বিধায়ক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ৩১ মে সেই সংখ্যা ২০-তে নেমে আসা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতারই প্রমাণ দিচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
পাশে কে কে? এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গেল ইন্দ্রনীল সেন, মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েনসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের। ধর্না মঞ্চে স্লোগান উঠেছে ‘জয় বাংলা’। তবে এই মেগা কর্মসূচির পরেও দলের ভাঙন রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা সফল হন, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
ভবিষ্যতের পথে: নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই প্রথমবার রাজপথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল ভাঙার এই স্রোত রুখতে কালীঘাটে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতা কতটা জমি ফিরে পান, তা এখন দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।





