বিশ্বে ফের বাড়ছে ইবোলা আতঙ্ক! কেন এই ভাইরাসকে বলা হয় ‘জল্লাদ’? কী বলছে ডব্লিউএইচও?

বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য মহলে ফের উদ্বেগ বাড়িয়ে ফিরে এসেছে ইবোলা ভাইরাসের ছায়া। ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ (EVD) নামক এই মারাত্মক সংক্রমণ আফ্রিকার একাধিক দেশে নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত সরকারও বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোকে আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও স্বস্তির খবর এটাই যে, বর্তমানে ভারতে ইবোলার কোনো নিশ্চিত রোগী এখনও শনাক্ত হয়নি। তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে সবরকম প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে।

ইবোলা কেন বিশ্বের অন্যতম ‘প্রাণঘাতী ভাইরাস’ হিসেবে পরিচিত? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে প্রাদুর্ভাবের তীব্রতা অনুযায়ী এই মৃত্যুহার ২৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এই ভাইরাসের সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু বা ভাইরাসজনিত জ্বরের মতো হওয়ায় গোড়ার দিকে একে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আর এই দেরিতে শনাক্তকরণই রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

শরীরে ইবোলা সংক্রমণের প্রভাব কতটা ভয়াবহ? ইবোলা আক্রমণের শুরুতে সাধারণত জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সংক্রমণের মাত্রা যত বাড়তে থাকে, রোগীর বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা এবং শারীরিক ক্লান্তি তত তীব্র হতে থাকে। সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রোগীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে রোগীর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়তে পারে। কিন্তু চিকিৎসায় সামান্য বিলম্ব রোগীর অবস্থাকে দ্রুত অবনতির দিকে ঠেলে দেয়, যা প্রায়শই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইবোলা প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কী? ইবোলা মোকাবিলায় সচেতনতাই হলো সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা বা অন্য যেকোনো দেহতরলের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে শতহস্ত দূরে থাকা জরুরি। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে এই মুহূর্তে ইবোলা আক্রান্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। প্রতিদিন নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। শরীরের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ বা হঠাৎ জ্বর-ব্যথা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনসচেতনতা এবং সঠিক সাবধানতাই পারে এই মারাত্মক সংক্রমণের থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে। ইবোলা নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকাগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই এখন একমাত্র বাঁচার উপায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy