রাঁচির লালপুর থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়েছে। বিশ্বাসভঙ্গের এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বীণা বিভা কুমারী তাঁর নিজেরই চাচাতো ভাই হর্ষ কুমার সিং ওরফে আয়ুশের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি সামনে আসতেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ মে বীণা বিভা কুমারী জরুরি কাজে পাটনায় যাওয়ার সময় তাঁর ফ্ল্যাটের চাবি ভরসা করে দিয়ে যান চাচাতো ভাই আয়ুশের কাছে। কিন্তু ৩১ মে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, তাঁর আলমারি পুরোপুরি ফাঁকা। সেখান থেকে হীরা, সোনা ও প্ল্যাটিনামের দামী গয়না এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। খোয়া যাওয়া গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। রাঁচির এসএসপি-র নির্দেশে সিটি ডিএসপির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, চোরেরা কোনো প্রমাণ রাখতে রাজি ছিল না। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি পরিকল্পিতভাবে বিকল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তির নিপুণতায় শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ গিয়ে পড়ে আয়ুশের ওপর। জিজ্ঞাসাবাদের চাপ দিতেই ভেঙে পড়ে সে। জানায়, নিজের কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এই চুরির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল সে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চুরি করা গয়নাগুলো একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয় অভিযুক্তরা। সেই টাকায় আয়ুশ একটি দামী ব্যবহৃত এসইউভি গাড়ি কেনে এবং বন্ধু ও প্রেমিকা লাইবা ইয়াসমিন ওরফে নিধিকে নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করে। আয়ুশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫.৪০ লক্ষ টাকা নগদ, একটি অ্যাপল মোবাইল ফোন এবং বিপুল পরিমাণ হীরা ও প্ল্যাটিনামের গয়না উদ্ধার করেছে।
এই মামলায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে— হর্ষ কুমার সিং, সিদ্ধান্ত সুমন, ধনঞ্জয় কুমার বর্মা এবং লাইবা ইয়াসমিন। এছাড়াও চোরাই গয়না কেনার অপরাধে এক গয়না ব্যবসায়ীকেও পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। রাঁচি সিটি ডিএসপি কে. ভি. রমন জানিয়েছেন, অত্যন্ত কৌশলে পরিকল্পিত এই চুরির মামলাটি সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে। এই ঘটনা ফের একবার আত্মীয়-পরিজনদের ওপর অন্ধ বিশ্বাসের পরিণতির দিকটি সামনে নিয়ে এল।





