নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সুপারহিরো ‘শক্তিমান’ হোক বা মহাভারতের অজেয় ‘ভীষ্ম পিতামহ’— মুকেশ খান্না মানেই এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। পর্দার সেই দাপুটে অভিনেতা বাস্তব জীবনে কেন এখনও অবিবাহিত, তা নিয়ে অনুরাগী মহলে কৌতূহলের শেষ নেই। অবশেষে ৬৭ বছর বয়সে এসে নিজের বিয়ে, প্রেম এবং একাকীত্ব নিয়ে মুখ খুললেন পর্দার শক্তিমান। স্পষ্ট জানালেন, কেন এতগুলো বসন্ত পেরিয়েও তাঁর জীবনে আসেনি কোনো জীবনসঙ্গিনী।
বিয়ে ভাগ্যের লিখন: সম্প্রতি ‘ফিল্মি চর্চা’-র সঙ্গে আলাপচারিতায় মুকেশ খান্না জানান, তিনি অবিবাহিত হলেও বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানে তাঁর অগাধ আস্থা রয়েছে। তাঁর কথায়, “অনেকে মনে করেন আমি বিয়ে করিনি মানেই হয়তো এই প্রথায় আমার বিশ্বাস নেই। কিন্তু সত্যিটা ঠিক উল্টো। আমি বিশ্বাস করি বিয়ে হলো জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন এবং এটি ভাগ্যে লেখা থাকে।” শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিনেতা জানান, স্ত্রী আপনার পূর্বজন্মের কর্মফল সংশোধন করতে জীবনে আসেন। তাঁর মতে, স্ত্রী এমনি এমনি পাওয়া যায় না, তাঁর আসাটা নিয়তি নির্ধারিত।
পৌরুষ ও প্রেম নিয়ে কড়া বার্তা: কথায় কথায় সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, “১০ জন প্রেমিকা থাকলেই কেউ বড় পুরুষ হয়ে যায় না। প্রেম বা পরকীয়া দিয়ে পৌরুষ প্রমাণ করা যায় না। পৌরুষ প্রমাণের আরও অনেক ইতিবাচক উপায় আছে।” মুকেশ খান্না আরও যোগ করেন, ভালোবাসা জীবনে একবারই আসে, বাকি যা হয় তা কেবলই সাময়িক আকর্ষণ।
পরকীয়া মানেই নির্ভেজাল বিশ্বাসঘাতকতা: দাম্পত্য জীবনে বিশ্বস্ততা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সবাই বলে স্ত্রীকে পতিব্রতা হতে হবে, কিন্তু একজন পুরুষেরও যে তাঁর স্ত্রীর প্রতি অনুগত থাকা উচিত— সেটা ক’জন বলে? আমি বলি, বিয়ের পর দুটি আত্মা এক হয়ে যায়। অথচ অনেকে স্ত্রীকে ভালোবাসার দাবি করেও পরকীয়া করেন। এটা পরিষ্কার প্রতারণা।”
ভুল ব্যাখ্যা করা হয় নারীবিদ্বেষ নিয়ে: মুকেশের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে অতীতে অনেক বিতর্ক হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে তাঁর মতামত প্রায়ই নারীবিদ্বেষী হিসেবে প্রচার করা হয়। এ প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি নারীদের বিরুদ্ধে নই। তাঁদের প্রতি আমার মনে অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার কথাগুলো প্রায়ই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।”
এখনও কি তবে বিয়ের সম্ভাবনা আছে? ৬৭ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে কি তিনি জীবনসঙ্গিনীর সন্ধান করছেন? মুকেশ খান্না অত্যন্ত দার্শনিক ভঙ্গিতে জানান, “সবই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি কপালে বিয়ের সুখ থাকত, তবে এতদিনে হয়ে যেত। আমার জন্য নির্ধারিত সেই নারী হয়তো কোথাও না কোথাও আছেন। সময় হলে ভাগ্যই আমাদের মিলিয়ে দেবে, সেখানে বয়স কোনো বাধা নয়।”
পর্দার আদর্শবাদী চরিত্রের মতোই বাস্তব জীবনেও যে মুকেশ খান্না নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে অবিচল, তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি যেন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।





