প্রতিরক্ষা গবেষণার জগতে এক বড়সড় পরিবর্তন। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-র চেয়ারম্যান ডঃ সমীর ভি. কামাতের কার্যকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরেই, কেন্দ্রীয় সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে প্রবীণ আইএএস অফিসার এবং বর্তমান প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং-এর কাঁধে। মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি (এসিসি) গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছে। আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি ডিআরডিও-র শীর্ষ প্রশাসনিক প্রধানের ভূমিকা পালন করবেন।
পরবর্তী কোনো স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত, আগামী ৩১ মে থেকে রাজেশ কুমার সিং একাধারে প্রতিরক্ষা সচিব এবং ডিআরডিও-র প্রশাসনিক ও গবেষণা সংক্রান্ত কাজকর্ম পরিচালনা করবেন। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই রদবদল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কেরালা ক্যাডারের ১৯৮৯ ব্যাচের এই অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার গত ১ নভেম্বর, ২০২৪-এ প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে সাউথ ব্লকে যোগ দেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বর্ণময়। এর আগে তিনি পশুপালন ও দুগ্ধ বিভাগের সচিব হিসেবে দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে—যেমন নগর উন্নয়ন মন্ত্রক, দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ডিডিএ), পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া—তিনি দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। কেরালা সরকারের অর্থ সচিব হিসেবেও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা বহুবার প্রশংসিত হয়েছে।
রাজেশ কুমার সিং-এর শিক্ষাগত পটভূমি অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তন ছাত্র। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও পড়াশোনা করেছেন। বিহারের মুজাফফরপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা একজন আইপিএস অফিসার ছিলেন, যাঁর কাছ থেকেই তিনি দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার আদর্শ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। তাঁর স্ত্রী একজন চিকিৎসক এবং দুই সন্তান নিয়ে তাঁর পরিবার। কাজের চাপের মধ্যেও তিনি নিজের শরীরচর্চার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। হাঁটা, জগিং এবং লন টেনিস খেলা তাঁর জীবনের অন্যতম প্রিয় অবসর বিনোদন।
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নের মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাজেশ কুমার সিং-এর মতো একজন পোড়খাওয়া প্রশাসকের অন্তর্ভুক্তি ভারতের সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁর ওপর এখন দায়িত্ব দেশের প্রতিরক্ষা স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে আরও শক্তিশালী করার।





