পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ: প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রচলিত জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে:
বায়োগ্যাসের ব্যবহার: রান্নার এলপিজি গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে বায়োগ্যাসের ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈদ্যুতিক যানবাহন ও গণপরিবহন: জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) এবং গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাশ্রয়ী দৃষ্টিভঙ্গি: প্রধানমন্ত্রী সোনা আমদানি এবং বিদেশ ভ্রমণের খরচ কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ভারতের প্রস্তুতি: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) সফরের ঠিক পরেই এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওই সফরকালে ভারতের পেট্রোলিয়াম মজুদ বাড়ানো এবং এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (ADNOC) সাথে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। যা বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দীর্ঘ ১১ মাস পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পরিষদের এই বৈঠকটি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। ৯ জুন সরকারের ১২ বছর পূর্তি এবং তৃতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এই বৈঠককে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি অঙ্গীকার। সরকারি কাজের সরলীকরণ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সাশ্রয়ই কি সমাধান? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, বিকল্প শক্তির উৎস এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী জীবনযাত্রাই আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারে। এখন সরকারি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার অপেক্ষায় দেশবাসী।





