বিএলও ফর্ম দিতেই উধাও সংখ্যালঘু পরিবার! SIR-এর ভয়ে সীমান্ত এলাকা ছাড়া ‘ভুতুড়ে ভোটারেরা’?

নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘ভুতুড়ে ভোটার’ নিয়ে ফের শোরগোল। বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনী (Special Summary Revision – SIR)-এর ফর্ম বিলি করতে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) গ্রামে পৌঁছতেই হঠাৎ উধাও হয়ে গেলেন একাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যেরা। বিরোধীদের দাবি, এসআইআর-এর ভয়েই বাড়ি ছেড়েছেন এই ভোটারেরা। শাসকদলের এক নেতা অবশ্য মেনে নিয়েছেন যে অনেকে বাংলাদেশে চলে গিয়েছেন।

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হুদো দিগম্বরপুর মুসলিম পাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই গ্রামটি কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত। গ্রামের মাঝখান দিয়ে খাল গেলেও দুই দেশের মাঝে কোনো সীমানার বেড়া না থাকায় দু’দেশের মধ্যে সহজে যাতায়াত করা সম্ভব। অভিযোগ, এই কারণেই অনেকে বাংলাদেশি মেয়েদের বিয়ে করে অবাধে যাতায়াত করে এবং ভারতের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

বিএলও আসতেই ঝুলি থেকে বেরোল বেড়াল
আইসিডিএস কর্মী অসীমা মণ্ডল এই এলাকার বিএলও’র দায়িত্বে আছেন। তিনি এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে গ্রামে পৌঁছতেই বেশ কিছু পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধান পাননি। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুসারে, ভোটারদের পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকলে এসআইআর ফর্ম দেওয়া যায় না। ফলে বিএলও অসীমা মণ্ডল ফর্ম বিলি করেননি।

বিএলও অসীমা মণ্ডল ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে না চাইলেও পুরো ঘটনার কথা স্বীকার করে নেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের বিএলএ ২ সুকুমার বিশ্বাস বলেন, “বেশ কতোগুলি ব্যক্তি বাংলাদেশে চলে গিয়েছে যাদের 2002 ভোটার তালিকায় নাম আছে। তারা স্থায়ীভাবে ভারতে বসবাস করত। বিএলও অসীমা মণ্ডল তাদের বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়েছে, কিন্তু তারা ফর্ম ফেরত দিয়ে দিয়েছে শুনেছি। বিএলওর কাজে আমরা খুব সন্তুষ্ট।”

বিজেপির দাবি, এটাই ভুতুড়ে ভোটারের প্রমাণ
এই ঘটনায় বিজেপি শাসকদল তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তুলেছে। বিজেপির জেলার নেতা অমিত প্রামাণিক বলেন, “এতদিন ধরে আমরা যেটা দাবি করে আসছিলাম সেটাই ঘটছে। ভুতুড়ে ভোটারের জলজ্যান্ত প্রমাণ পাওয়া গেল হুদো দিগম্বরপুর মুসলিম পাড়ায়। শাসকদলের নেতাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভুতুড়ে ভোটাররা বাংলাদেশে বসবাস করেন। এর থেকেই প্রমাণ শাসকদলের মদতেই এরা দুই দেশের নাগরিক।”

তিনি বিএলও অসীমা মণ্ডলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে বিএলও যে তাদের ফর্ম ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। সমস্ত সরকারি আধিকারিকরা যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেন, তাহলে এসআইআর-এর ক্ষেত্রে যারা দুই দেশের নাগরিক, তাদের নাম বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে জোরদার রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

Related Posts

© 2025 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy