ভোট মানেই বাইক বাহিনীর দাপট? এবার সেই ছবিতে ইতি টানতে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বাইক চলাচলের ওপর জারি হলো একগুচ্ছ কড়া বিধিনিষেধ। বিশেষ করে রাতের বেলা বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরোনো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে সাধারণ মানুষের জন্য।
কখন ও কোথায় নিষেধাজ্ঞা?
২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোট। সেই এলাকাগুলিতে মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী:
রাতের কার্ফু: প্রতিদিন সন্ধে ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত রাস্তায় কোনো মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না।
দিনের বেলায় কড়াকড়ি: সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত বাইক চললেও, পিছনে কাউকে বসানো যাবে না। অর্থাৎ, চালক ছাড়া দ্বিতীয় কোনো আরোহী থাকতে পারবেন না।
বাইক মিছিল: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই যেকোনো ধরণের বাইক মিছিলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ছাড় মিলবে কোন ক্ষেত্রে?
কমিশন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে কিছু জরুরি পরিষেবা ও ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে:
চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করা যাবে।
শিশুদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়াও কোনো বিশেষ পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ছাড় মিলতে পারে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
নির্বাচন কমিশনের মতে, অনেক সময় দুষ্কৃতীরা বাইকে করে দলবদ্ধভাবে ঘুরে ভোটারদের ভয় দেখায়। এছাড়া সরু গলি দিয়ে নজরদারি এড়িয়ে মদ বা নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে বাইক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে। এই ‘পেশিশক্তি’ রুখতেই বাইকের চাকা বেঁধে ফেলার সিদ্ধান্ত।
বিপাকে ডেলিভারি কর্মীরা, ঘনীভূত ধোঁয়াশা
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি চিন্তায় পড়েছেন জোম্যাটো, সুইগি বা জেপটোর মতো অ্যাপ-ভিত্তিক ডেলিভারি কর্মীরা। রাতের বেলাতেই তাঁদের কাজের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় এই ‘গিগ কর্মীদের’ জন্য আলাদা কোনো ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরাও মানছেন যে, ডেলিভারি বয়দের নিয়ে নির্দেশিকায় স্পষ্ট কোনো গাইডলাইন নেই, ফলে রাস্তায় নেমে তাঁরা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কমিশনের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত সাধারণ মানুষকে বাইক নিয়ে বেরোনোর আগে ঘড়ি এবং ক্যালেন্ডার— দুটোই ভালো করে দেখে নিতে হবে।





