পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে বড়সড় এক প্রশাসনিক মারপ্যাঁচের ইঙ্গিত দিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ শশী থারুর। স্ট্যানফোর্ড ইন্ডিয়া কনফারেন্সের ‘ইন্ডিয়া, দ্যাট ইজ ভারত’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে থারুর দাবি করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলেছে।
থারুরের মতে, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। এর মধ্যে ৩৪ লক্ষ মানুষ যথাযথ নথি জমা দিয়ে আবেদন করেছিলেন যে তাঁরা বৈধ ভোটার এবং তাঁদের নাম অন্যায়ভাবে কাটা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের আগে প্রতিটি আবেদনের ব্যক্তিগত শুনানি ও নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হয়েছিল মাত্র কয়েকশ’ আবেদনের শুনানি। বাকি প্রায় ৩১-৩২ লক্ষ মানুষের আবেদন অমীমাংসিত রেখেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তীব্র কটাক্ষ করে থারুর বলেন, “বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে। আর ঠিক একই পরিমাণ মানুষ—যারা নিজেদের বৈধ ভোটার দাবি করে আবেদন করেছিলেন—তাঁদের আবেদনের শুনানিই করা হলো না। তাঁরা ভোট দেওয়ার সুযোগই পেলেন না। তাহলে এই জয়কে কি সম্পূর্ণ ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক বলা চলে? এটা আমার বৈধ প্রশ্ন।” তিনি আরও যোগ করেন, ভুয়ো বা স্থানান্তরিত ভোটার বাদ দেওয়া নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু জীবিত ও বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করা উদ্বেগের বিষয়।
কেরলের পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ জানান, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যটিতে ভোটার তালিকায় কারচুপি বা একাধিক জায়গায় নাম থাকার প্রবণতা ছিল বামপন্থীদের। সেখানে এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় কংগ্রেস লাভবান হয়েছে কারণ ভুয়া নামগুলো মুছে ফেলা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল বিশাল এবং তাঁদের দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসন নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সেই নির্বাচনে তৃণমূল ৮০টি এবং কংগ্রেস মাত্র ২টি আসন পায়। শশী থারুরের এই নতুন দাবি সেই জয়ের মাহাত্ম্যকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।





