আধুনিক লাইফস্টাইলে ক্লান্তি দূর করতে স্পা বা বডি ম্যাসাজ পার্লারে যাওয়া এখন খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু এই রিল্যাক্সেশনের আড়ালেই যে ওত পেতে বসে আছে চরম কোনো বিপদ, তা প্রমাণ করল আরও একটি হাড়হিম করা ঘটনা। বডি ম্যাসাজ করার নাম করে ডজন ডজন তরুণী ও মহিলার অজান্তে তাঁদের নগ্ন ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেইল করার এক ভয়ঙ্কর চক্রের পর্দাফাঁস করল সাইবার ক্রাইম পুলিশ। এক যুবকের ‘অনিয়ন্ত্রিত ও বিকৃত’ লালসার শিকার হয়েছেন অন্তত ৬১ জন মহিলা। ধৃত যুবকের মোবাইল ও ল্যাপটপ ঘেঁটে উদ্ধার হয়েছে শয়ে শয়ে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি।
যেভাবে পাতা হতো এই বিকৃত লালসার ফাঁদ
পুলিশ ও তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইনের মাধ্যমে হোম ম্যাসাজ সার্ভিস এবং স্পা পার্লারের বিজ্ঞাপন দিত। কম খরচে ভালো পরিষেবার টোপ দিয়ে মূলত তরুণী ও মধ্যবয়সী মহিলাদের টার্গেট করত সে।
গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করার পর, ম্যাসাজ রুমে বা তাঁদের বাড়িতে গোপনে লুকিয়ে রাখা স্পাই ক্যামেরা (Hidden Camera) বা নিজের মোবাইল কৌশলে সেট করে রাখত ওই যুবক। মহিলারা যখন ম্যাসাজের জন্য পোশাক পরিবর্তন করতেন বা সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় থাকতেন, ঠিক তখনই তাঁদের অজান্তে সেই সমস্ত গোপন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা হতো।
ব্ল্যাকমেইল এবং ‘ডার্ক ওয়েব’-এ ভিডিও বিক্রির ছক
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই অপরাধের ব্যাপ্তি ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ধৃত যুবকের মোডাস অপারেন্ডি ছিল মূলত দুটি:
১. সরাসরি ব্ল্যাকমেইল: ভিডিও রেকর্ডিংয়ের পর বেশ কিছু প্রভাবশালী ও ধনী ঘরের মহিলাদের সেই ক্লিপ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত সে। টাকা না দিলে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হতো।
২. পর্ন সাইট ও ডার্ক ওয়েব: যেসব মহিলারা লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতেন না, তাঁদের ভিডিও চড়া দামে বিভিন্ন নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট এবং ‘ডার্ক ওয়েব’-এ বিক্রি করে দিত এই বিকৃতমনস্ক যুবক।
সাইবার পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “আমরা যখন অভিযুক্তের ডিভাইসগুলি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাই, তখন উদ্ধার হওয়া ডেটা দেখে আমাদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। প্রায় ৬১ জন মহিলার আলাদা আলাদা ফোল্ডার বানিয়ে তাঁদের নগ্ন ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য সাজিয়ে রেখেছিল ওই যুবক। এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং বিকৃত এক অপরাধ।”
পুলিশি অ্যাকশন ও আমজনতার জন্য কড়া সতর্কতা
এক ভুক্তভোগী তরুণীর সাহসিকতা ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই চক্রের মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর আওতায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে মহিলাদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো স্পা, বিউটি পার্লার কিংবা ম্যাসাজ সেন্টারে গিয়ে পোশাক পরিবর্তনের আগে বা পরিষেবা নেওয়ার আগে চারপাশের দেওয়াল, হুক, ঘড়ি বা আয়নার পেছনে কোনো লুকানো ক্যামেরা আছে কিনা, তা ভালো করে খতিয়ে দেখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।





