বকরি ইদে গরু কুরবানি কি বন্ধ? ১৯৫০ সালের আইন প্রয়োগ, কী জানাল হাইকোর্ট?

রাজ্যে পালাবদলের পর বকরি ইদকে সামনে রেখে কুরবানি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ায় মুসলিম সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কী বলছে রাজ্যের নতুন নির্দেশিকা? ১৩ মে রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা নিষিদ্ধ।

  • ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদি পশুকে জবাই করা যাবে না।

  • স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।

  • কেবল গুরুতর অসুস্থ বা বিকলাঙ্গ পশুকেই বিশেষ বিবেচনায় জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বড় ধাক্কা: এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ সরকারের এই জনবিজ্ঞপ্তি স্থগিত করতে অস্বীকার করেছে। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের নিরিখে গরু কুরবানি ইসলামের কোনো ‘অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা’ নয়। সুতরাং, এই বিজ্ঞপ্তিকে বাতিল করার কোনো ভিত্তি নেই।

মুসলিম সমাজের অবস্থান: এই বিতর্ক নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে:

  • সায় দিচ্ছেন যারা: নাখোদা মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি আইন মানার ওপর জোর দিয়েছেন। পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির আবেদন, “কোনও রকম বিতর্ক বা অশান্তিতে না জড়িয়ে এ বছর গরু কুরবানি থেকে বিরত থাকা শ্রেয়।”

  • প্রতিবাদে যারা: অন্যদিকে, বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ও প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর মতো নেতারা এই নির্দেশিকাকে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ‘টার্গেট’ করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাঁদের সাফ কথা, “১৪০০ বছরের প্রথা কেউ আটকাতে পারবে না, কুরবানি হবেই।”

আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই: আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য আদালতে গরুর বয়সের সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাট বন্ধ হওয়ার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তবে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আইন দীর্ঘকাল কার্যকর ছিল বলেই তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের এই দ্বন্দ্বে বকরি ইদের প্রাক্কালে রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে এক অস্থির পরিস্থিতি। সরকার আইনের পথে অবিচল থাকতে চাইলেও, রাজনৈতিক নেতাদের হুঙ্কার পরিস্থিতিকে কোথায় নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আমজনতা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy