লোকসভা ভোটের আবহে এবার খোদ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতাকে শোকজ করল কমিশন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।
কী ঘটেছিল তামিলনাড়ুতে?
ঘটনার সূত্রপাত তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারের সময়। সেখানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে AIADMK-কে আক্রমণ করতে গিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান খাড়গে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তামিলনাড়ুর এই দল নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে জোট করতে পারে? ঠিক সেই আবহেই প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিতর্ক। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব একযোগে গর্জে ওঠে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদকে চরম অসম্মান করা। এরপরই বিজেপির পক্ষ থেকে কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে খাড়গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।
কমিশনের কড়া অবস্থান
নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনের অভিযোগে মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে সংযম বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কেন তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে প্রবীণ এই নেতার কাছে।
বিতর্ক ঢাকতে কী সাফাই দিলেন খাড়গে?
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মুখ খুলেছেন খাড়গে নিজেই। তবে তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। খাড়গের ব্যাখ্যা:
“আমি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী বলিনি। আমি বোঝাতে চেয়েছি, যেভাবে ইডি (ED) বা আয়কর দফতরের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা এক প্রকার রাজনৈতিক সন্ত্রাস। শাসক দলের স্বার্থে এই সংস্থাগুলি কাজ করছে, সেই প্রেক্ষিতেই আমি ওই মন্তব্য করেছিলাম।”
চাপের মুখে কংগ্রেস
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘নিছকই রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে লঘু করার চেষ্টা করা হলেও, বিজেপি বিষয়টিকে জাতীয় ইস্যু করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের মুখে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন শব্দ ব্যবহার কংগ্রেসের জন্য বুমেরাং হতে পারে। এখন দেখার, কমিশনের শোকজের উত্তরে খাড়গে কী জবাব দেন।





