প্রথম দফাতেই কি বিজেপির ‘হোয়াইট ওয়াশ’? ১৫২ আসনের লড়াইয়ে মমতার তুরুপের তাস কোনগুলো?

রাত পোহালেই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধের প্রথম অঙ্ক। কাল ২৩ এপ্রিল, রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে হতে চলেছে হাইভোল্টেজ ভোটগ্রহণ। এই দফায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণকৌশল কি বিজেপিকে ‘হোয়াইট ওয়াশ’ বা সম্পূর্ণ সাফ করে দিতে পারবে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ এবং মাঠের সমীকরণ কিন্তু বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংখ্যালঘু বলয় ও ‘সুপার এমার্জেন্সি’র হাওয়া মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের ৩৪টি আসন এবার তৃণমূলের পাখির চোখ। ভোটার তালিকায় কড়াকড়ি বা SIR (Special Intensive Revision)-কে তৃণমূল ‘সুপার এমার্জেন্সি’ বলে প্রচার করছে। মথাবাড়ি, সুজাপুর, ভগবানগোলা এবং রানিনগরের মতো সংখ্যালঘু প্রধান আসনগুলিতে তৃণমূলের পাল্লা অত্যন্ত ভারী। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় এবং সিএএ-এনআরসি আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে বিজেপিকে এখানে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত করাই ঘাসফুলের লক্ষ্য।

শুভেন্দুর গড়ে ফাটল ধরানোর চেষ্টা মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই মেদিনীপুরের ৩২টি আসনে এবার লড়াই অস্তিত্বের। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর নিজের গড়েই চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তৃণমূল প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং জেলাজুড়ে সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি এবার বিজেপিকে গতবারের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে দেবে।

উত্তরবঙ্গে কি সমীকরণ বদলাবে? কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে গতবার বিজেপি ঝড় তুললেও এবার ডুয়ার্সের চা-বলয়ে লড়াই হবে সমানে সমানে। ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’ কর্মসূচির পর থেকে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় ঘাসফুলের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। দিনহাটায় উদয়ন গুহ এবং শীতলকুচিতে হরিহর দাসের মতো প্রার্থীদের দাপটে বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। চা-শ্রমিকদের জন্য মমতার জনমুখী প্রকল্পগুলোই এখানে হতে পারে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি।

তুরুপের তাস: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও নারী শক্তি তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসের মূল স্তম্ভ হলো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। প্রতি মাসে ১০০০-১২০০ টাকার বদলে বর্তমানে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছানোয় গ্রামীণ বাংলার নারী ভোটব্যাঙ্ক বড় আকারে জোড়াফুলের দিকে ঝুঁকতে পারে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের মতো জঙ্গলমহল এলাকাতেও এই প্রকল্পের প্রভাব বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কমিশনের কড়াকড়ি ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশন বাইক বাহিনী নিষিদ্ধ করা এবং অপরাধপ্রবণ বুথে পুনর্নির্বাচনের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তৃণমূল কর্মীরা সরকারি উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে ভোটারদের বুথমুখী করতে মরিয়া।

সামগ্রিকভাবে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে যদি দক্ষিণবঙ্গ এবং সংখ্যালঘু বলয় ধরে রাখতে পারে তৃণমূল, তবে ২০২৬-এর কুর্সির লড়াইয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে যাবে। ‘উন্নয়ন বনাম মেরুকরণ’-এর এই দ্বৈরথে শেষ হাসি কে হাসে, তার উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy