অপেক্ষার অবসান। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। এ বছর পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৭৬ দিনের মাথায় ফলাফল প্রকাশ করে সংসদ এক নয়া নজির সৃষ্টি করল।
রেকর্ড পাশের হার:
সংসদ সভাপতি জানিয়েছেন, এ বছর উচ্চমাধ্যমিকে পাশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৩ শতাংশ। এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ২৫৮ জন। তার মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৫৫ জন। বিশেষ বিষয় হল, এবারও পাশের হারের নিরিখে ছাত্রদের টেক্কা দিয়েছে ছাত্রীরা। পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর ছাত্রীদের পাশের হার ৯২.৪৭ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাশের হার ৮৯.৭১ শতাংশ। এছাড়াও এ বছর তৃতীয় লিঙ্গের একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
মেধাতালিকার চমক:
পাশের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও, মেধাতালিকা বা মেরিট লিস্টের প্রথম সারিতে ছাত্রদের দাপট চোখে পড়ার মতো। সংসদ প্রকাশিত মেধাতালিকায় এ বছর জায়গা করে নিয়েছেন মোট ৬৪ জন। এই ৬৪ জনের মধ্যে ৫৬ জনই ছাত্র, আর ছাত্রীর সংখ্যা ৮। মেধাতালিকার শীর্ষে থাকা পড়ুয়াদের নাম ও প্রাপ্ত নম্বর ইতিমধ্যেই সংসদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
দ্রুততম ফল প্রকাশ:
এদিন সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নির্ভুলভাবে এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করাই ছিল সংসদের লক্ষ্য। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মাত্র ৭৬ দিনের ব্যবধানে এই ফল প্রকাশ অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। সংসদ সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষা দপ্তরের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
পড়ুয়ারা আজ বেলা ১টা থেকে সংসদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট এবং অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন। স্কুলগুলি থেকে খুব শীঘ্রই মার্কশিট ও সার্টিফিকেট বিলি করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই ফলাফলে যারা আশানুরূপ ফল করতে পারেননি, তাদের জন্য পিপিএস (PPS) এবং পিপিআর (PPR)-এর নিয়মাবলীও সংসদ স্পষ্ট করে দিয়েছে।





