তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা ফলতার এক সময়ের ‘বেতাজ বাদশা’ জাহাঙ্গির খানের কপালে শনির দশা। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় এতদিনের পাওয়া রক্ষাকবচ এবার পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এই নির্দেশের ফলে, জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
আদালতে কী ঘটল? আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে বেশ কিছু মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন জাহাঙ্গির। আগামিকাল বুধবার সেই মেয়াদের শেষ দিন ছিল। কিন্তু তার আগেই আজ বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে মামলাটি উঠলে আদালত কঠোর অবস্থান নেয়। কেন পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক। দুপুরে পুনরায় শুনানি হলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত এফআইআর-এর রক্ষাকবচ বাতিল করা হচ্ছে। নতুন করে তিনি আর কোনও রক্ষাকবচ পাবেন না। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের করা রয়েছে।
বিতর্কিত অতীত ও বর্তমান: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান ডায়মন্ড হারবার লোকসভা নির্বাচনের সময় শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। সে সময় উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা তাকে সতর্ক করলে, পাল্টা নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে জাহাঙ্গির বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক ফলতা উপনির্বাচনের সময় ছবিটা একেবারেই উল্টে যায়। ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন সেখানে ভোট বাতিল করে দেয়। এরপরই পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গির ঘোষণা করেন তিনি নির্বাচনে লড়বেন না, যা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় তাকে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, যে নেতার ভয়ে একসময় এলাকা কাঁপত, তিনি ভোট পাওয়ার নিরিখে চার নম্বরে নেমে গিয়েছেন। ওই আসনে ১ লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী।
আইনি রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ায় এখন পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





