পুরী ভ্রমণে বড় ধাক্কা! হোটেল ভাড়া শুনেই পিলে চমকাচ্ছেন পর্যটকরা

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই তালিকায় শীর্ষে থাকে পুরী। কিন্তু সম্প্রতি জগন্নাথ ধামে পা রাখতে গিয়েই বড়সড় হোঁচট খাচ্ছেন পর্যটকরা। গরমের ছুটি বা উইকেন্ডে পুরী যাওয়া বাঙালির কাছে ঐতিহ্যের মতো। কিন্তু বর্তমানে সেই ঐতিহ্যের পথেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হোটেল ভাড়ার আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। পর্যটন শিল্পের তথ্যানুসারে, পূর্ব ভারতের মধ্যে হোটেল ভাড়ার নিরিখে এখন শীর্ষে ওড়িশা। চাহিদা তুঙ্গে, কিন্তু পরিকাঠামো সেই অনুপাতে না বাড়ায় সাধারণ পর্যটকদের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।

পুরীর হোটেলগুলোর সাম্প্রতিক ভাড়ার তালিকা দেখলে চমকে উঠতে হয়। একসময়ে যে সাধারণ হোটেল বা ধর্মশালা ১০০০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৩০০০ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড এসি লজের ভাড়া ৩০০০ থেকে বেড়ে ৬০০০ টাকা এবং প্রিমিয়াম রিসোর্টের ভাড়া ৭০০০ থেকে লাফিয়ে ১৭,০০০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। বিখ্যাত পুরী হোটেলের ডিলাক্স রুমের ভাড়া ৪০০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০০০ টাকা। ভিক্টোরিয়া হোটেলের সাধারণ ঘর ৪৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০০০ টাকা। এমনকি ভক্ত নিবাসের মতো জায়গাতেও সাধারণ ভাড়ার অঙ্ক ১৮০০ থেকে বেড়ে ৫০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন সমুদ্রের টান, ধর্মীয় পর্যটন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতিকে। শ্রীমন্দির করিডোর প্রকল্প এবং সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যায়নের ফলে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দিল্লি, গুজরাত ও মহারাষ্ট্র থেকেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কলকাতা থেকে যাওয়া পর্যটকদের কথায়, “আগে যে টাকায় দু’রাত থাকা যেত, এখন এক রাত থাকাই অসম্ভব।”

হোটেল মালিকদের যুক্তি, চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন এবং বিদ্যুতের খরচও বেড়েছে। এছাড়া বর্তমানে পর্যটকরা সাধারণ ঘরের বদলে সুইমিং পুল, আধুনিক পরিষেবা ও সি-ভিউ সমৃদ্ধ বিলাসবহুল ঘর খুঁজছেন। সেই চাহিদা মেটাতেই খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা ওড়িশার পর্যটন শিল্পে যেমন জোয়ার এনেছে, তেমনই সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালে পুরী ভ্রমণ কঠিন করে তুলেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy