ভোটার তালিকা থেকে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপে ওই ২৭ লক্ষ নাগরিকের নাম দ্রুত ভোটার তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলই রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
এদিন নওশাদ সিদ্দিকী সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি বলেন, “ভোটের আগে তৃণমূল এসআইআর (SIR)-এর ভয় দেখিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করতে চেয়েছিল, যাতে তারা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে পারে। কিন্তু সেই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। তারা মাত্র ৮০টি আসনে জিতেছে, যার মধ্যে ৩৯টিই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। অর্থাৎ, এতদিন তারা সংখ্যালঘুদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করলেও, মুসলিমদের জন্য কোনো প্রকৃত কাজ করেনি। তাই আজ সংখ্যালঘুরা তৃণমূলকে বর্জন করছে।”
নওশাদের স্পষ্ট বার্তা, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আইএসএফ আপসহীন। তিনি বলেন, “ভোটাধিকার বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই আমাদের দল গঠিত হয়েছে। বাংলার মানুষের অবাধে ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্য আমাদের আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে। যেকোনো মূল্যে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতেই হবে।”
একই সঙ্গে বুলডোজার রাজনীতি নিয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন নওশাদ। তপসিয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে প্রথম বুলডোজার যখন চলেছিল, তখন তিনি এবং বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানান, আদালতের মাধ্যমেই এই ধরনের উচ্ছেদ বা বুলডোজার নীতির মোকাবিলা সম্ভব।
উল্লেখ্য, বুধবার রাজ্যে বিজেপির বুলডোজার নীতি, হকার উচ্ছেদ এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে বিধানসভা চত্বরে ধরনায় বসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে হওয়া এই ধরনা প্রসঙ্গে নওশাদ তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৩০ জনও ওই ধরনায় উপস্থিত ছিলেন না। নওশাদের দাবি, এতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থা কতটা নড়বড়ে। সব মিলিয়ে, ২৭ লক্ষ নাগরিকের ভোটাধিকার ইস্যু এবং বুলডোজার রাজনীতি নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকীর এই আক্রমণ তৃণমূলের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।





