পাহাড়ে কি এবারও ফুটবে পদ্ম? না কি মমতার আস্থার হাত ধরবে তরাই-ডুয়াস? ২৩ এপ্রিল পাহাড়ের মহারণ

পাহাড়ের রাজনীতি সবসময়ই সমতলের থেকে আলাদা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, শৈলশহর দার্জিলিংকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। আগামী ২৩ এপ্রিল দার্জিলিং জেলার তিনটি পাহাড়ি আসন (দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং) এবং তিনটি সমতলের আসনে (শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি) ভোটগ্রহণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও পাহাড়ের এই দুর্গ দখল করা তৃণমূলের কাছে বরাবরই এক বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটি:
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলে বিজেপির আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১৪ সাল থেকে লোকসভা ভোটেও বিজেপি এখানে অপরাজেয়। পাহাড়ের মানুষ এবং স্থানীয় গোর্খা দলগুলো দীর্ঘকাল ধরেই বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে। বিজেপি সমর্থিত গোর্খা প্রার্থীরা পাহাড় ও সমতলের আসনগুলোতে নিজেদের দাপট বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ত্রিমুখী লড়াই ও জোটের অঙ্ক:
এবার পাহাড় দেখছে এক ত্রিমুখী লড়াই। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন করছেন অনীত থাপার দল ‘বিজিপিএম’ (BGPM)-কে। অন্যদিকে রয়েছে বিজেপি এবং নতুন দল ‘আইজিজেএফ’ (IGJF)। দীর্ঘদিনের গোর্খাল্যান্ডের দাবি এবং ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’ (PPS)-এর প্রতিশ্রুতি পাহাড়ের মানুষের আবেগের মূল জায়গা। গোর্খা দলগুলো অনেকেই সরাসরি মমতা সরকারকে বিশ্বাস না করে কেন্দ্রীয় শাসকদলের দিকে ঝুঁকে থাকে। তবে অনীত থাপার উত্থান তৃণমূলের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তুরুপের তাস আরএসএস ও অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি:
বিজেপির এই শক্ত অবস্থানের পেছনে রয়েছে আরএসএস (RSS)-এর দীর্ঘকালীন নেটওয়ার্ক। পাহাড়ের বিভিন্ন জাতি ও উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংগঠনটি গভীরে শিকড় ছড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের’ প্রতিশ্রুতি গোর্খা দলগুলোর কাছে তুরুপের তাসের মতো কাজ করছে। এখন দেখার, ২৩ এপ্রিল পাহাড়ের মানুষ উন্নয়নের জোয়ারে না কি পৃথক পরিচয়ের আবেগে কার পক্ষে রায় দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy