বৈশাখী গরমে গলা ভেজাতে দোকানে গিয়ে ডায়েট কোক খুঁজছেন? উত্তর মিলছে ‘স্টক নেই’। যে সিলভার ক্যান এক সময় ফ্রিজ ভর্তি থাকত, আজ তা শহরের নামী বিপণিগুলোতেও অমিল। ভাবছেন ডায়েট কোকের উৎপাদন বন্ধ? আজ্ঞে না, সমস্যার মূলে রয়েছে সুদূর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে চলা এক বিশাল ধাতব সংকট।
সমস্যা পানীয় নয়, প্যাকেজিংয়ে!
রিপোর্ট বলছে, ডায়েট কোকের এই আকালের পেছনে রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ক্যানের তীব্র ঘাটতি। সাধারণ কোল্ড ড্রিঙ্কস কাঁচের বোতল বা প্লাস্টিকের (PET) বোতলে সহজলভ্য হলেও, ডায়েট কোক মূলত ক্যানের ওপর নির্ভরশীল। আর সেই ক্যান তৈরির প্রধান কাঁচামাল অ্যালুমিনিয়াম এখন অগ্নিমূল্য।
কেন এমন অগ্নিমূল্য অ্যালুমিনিয়াম?
আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম গত ৪ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম প্রায় ৩,৬৭২ ডলার। ভারতে এই ধাতুর কেজি প্রতি দাম ঠেকেছে প্রায় ৩৭৫ টাকায়।
কেন এই বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা?
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে মোট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের প্রায় ৯% হয় মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার ফলে সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা লেগেছে।
শিপিং সংকট: হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন ও বিমার খরচ আকাশ ছুঁয়েছে।
বিশাল ঘাটতি: এ বছর বিশ্ববাজারে প্রায় ২০ লক্ষ টন অ্যালুমিনিয়ামের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে, যা সামাল দেওয়ার মতো মজুত নেই।
বাড়ছে চাহিদা, কমছে জোগান
আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত এক বছরে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে সুগার-ফ্রি পানীয়র চাহিদা দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের মধ্যে ডায়েট কোক অত্যন্ত জনপ্রিয়। চাহিদা বাড়লেও অ্যালুমিনিয়াম সঙ্কটের কারণে কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত ক্যান তৈরি করতে পারছে না। অনেক সংস্থা এখন বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে চড়া দামে ক্যান আমদানি করছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ।
কী হবে আগামী দিনে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন ইতিমধ্যেই তার সর্বোচ্চ উৎপাদন সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। আমেরিকা বা ইউরোপেও নতুন করে উৎপাদন বাড়ানোর পথ বন্ধ। ফলে এই ঘাটতি খুব দ্রুত মেটার সম্ভাবনা কম। এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর— কেউ দোকানে গিয়ে খালি হাতে ফিরছেন, আবার কেউ স্টক পেলে একবারে অনেকগুলো ক্যান কিনে মজুত (Panic Buying) করছেন।





