পর্দার আড়ালে কি চরম সমঝোতা? আমেরিকার সঙ্গে ইরানের গোপন বৈঠকের জল্পনায় উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি!

মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে কি এক বড়সড় মোড় আসতে চলেছে? একদিকে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে যে আমেরিকার সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার প্রস্তাব তাদের টেবিলে নেই। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের অন্দরের খবর বলছে অন্য কথা। প্রকাশ্য কড়া মনোভাব দেখালেও পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নাকি জোরকদমে চালাচ্ছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের একটি সুপরিকল্পিত চাল, যাতে আলোচনার টেবিলে নিজেদের দর কষাকষির ক্ষমতা বজায় রাখা যায়।

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে দুটি প্রধান শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং দ্বিতীয়ত, ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া। এই শর্তগুলো নিয়ে যখন দড়ি টানাটানি চলছে, ঠিক তখনই উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর হুঁশিয়ারি—নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই উত্তেজনার মধ্যেই খবর মিলছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান সফরে ইসলামাবাদ যেতে পারেন। মনে করা হচ্ছে, এই আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় আমেরিকা।

তবে ইরানের অন্দরে সব পক্ষ এই উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখছে না। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মতে, আমেরিকার এই কূটনীতি আসলে বড় কোনো সামরিক অভিযানের নীল নকশা হতে পারে। অন্যদিকে, ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) দাবি করেছে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এখন সারা বিশ্বের নজর আগামী ২২ এপ্রিলের দিকে, যেদিন বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইসলামাবাদ বৈঠক কি শান্তির পথ দেখাবে, নাকি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হবে নতুন কোনো সংঘাত? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy