ভারতীয় ফিনটেক জগতের সবথেকে বড় নামগুলোর মধ্যে একটি—পেটিএম (Paytm)। মাঝখানে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা এবং ব্যাঙ্কিং বিধিনিষেধের কারণে সংস্থাটি কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। সমস্ত জল্পনা এবং আশঙ্কাকে এক পাশে সরিয়ে দিয়ে ফের ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করল বিজয় শেখর শর্মার নেতৃত্বাধীন এই সংস্থা। তৈরি করল এক নয়া রেকর্ড।
রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পেটিএম কেবল তার হারানো জমি ফিরে পায়নি, বরং লেনদেনের সংখ্যা এবং নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট থেকে শুরু করে কিউআর কোড (QR Code) ট্রানজ্যাকশন—সব ক্ষেত্রেই গ্রাফ এখন ঊর্ধ্বমুখী। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটিএম-এর এই ‘কামব্যাক’ ফিনটেক ইতিহাসের অন্যতম সেরা উদাহরণ হয়ে থাকবে।
গ্রাহকদের আস্থায় ফিরে আসা পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্ক নিয়ে কড়াকড়ির পর অনেকেই মনে করেছিলেন পেটিএম বোধহয় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু সংস্থাটি খুব দ্রুত থার্ড পার্টি অ্যাপ প্রোভাইডার (TPAP) হিসেবে নিজেদের গুছিয়ে নেয় এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ও স্টেট ব্যাঙ্কের মতো বড় মাপের অংশীদারদের সঙ্গে জোট বাঁধে। এই স্ট্র্যাটেজিক পদক্ষেপই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ? ১. নয়া প্রযুক্তির ব্যবহার: সাউন্ডবক্স এবং কার্ড মেশিনের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন ফিচার যুক্ত করায় ছোট ব্যবসায়ীরা ফের পেটিএম-এর ওপর ভরসা দেখাচ্ছেন। ২. দ্রুত লেনদেন: ট্রানজ্যাকশন ফেল হওয়ার হার প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে এই সংস্থা। ৩. আস্থা ও নিরাপত্তা: নতুন করে গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পর কয়েক লক্ষ পুরনো গ্রাহক ফের সক্রিয় হয়েছেন অ্যাপটিতে।
সংস্থার এই অভাবনীয় সাফল্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শেয়ার বাজারেও। বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে আশার আলো জেগেছে। এক কথায় বলতে গেলে, বাজার দখলের লড়াইয়ে পেটিএম বুঝিয়ে দিল তারা ফুরিয়ে যায়নি, বরং আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। আপনিও কি পেটিএম ব্যবহার করছেন? তবে আপনার জন্য আগামী দিনে আরও অনেক চমক অপেক্ষা করছে।





