পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো। আজ নবান্নে রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক ক্যাবিনেট মিটিং, যেখানে রাজ্যের আগামী দিনের রূপরেখা এবং জনহিতকর প্রকল্পগুলো নিয়ে বড়সড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজকের দিনটি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বর্ণময়। নবান্নে যাওয়ার আগে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি পৌঁছে যান বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের বাসভবনে। সেখানে দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ একান্ত আলোচনা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শুরুর দিনেই দলের বর্ষীয়ান নেতৃত্বের আশীর্বাদ নেওয়া শুভেন্দুর এক কৌশলী পদক্ষেপ। শমীক ভট্টাচার্যের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রীকে আত্মবিশ্বাসী দেখায় এবং উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বিজয়ী হাসি উপহার দেন।
এর ঠিক পরেই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছান বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে। সেখানে এক বিশাল সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে চত্বর ছিল লোকারণ্য। বাদ্যযন্ত্রের সুর আর ফুলের মালায় নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করে নেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় কর্মীদের উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সংক্ষেপে বার্তা দেন যে, তাঁর সরকার বিভাজন নয়, বরং উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে।
পার্টি অফিসের যাবতীয় অনুষ্ঠান সেরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি রওনা হন রাজ্য সচিবালয় নবান্নের উদ্দেশ্যে। সেখানে নবাগত মন্ত্রীদের নিয়ে তিনি বৈঠকে বসছেন। সূত্রের খবর, এই প্রথম বৈঠকে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কৃষি সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করতে পারেন তিনি। সাধারণ মানুষের নজর এখন নবান্নের সেই ১৪ তলার দিকে, যেখান থেকে আজ একগুচ্ছ নতুন ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘প্রথম দিনের অ্যাকশন’ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তিনি সময় নষ্ট না করে দ্রুত গতিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।





