রাজ্যের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘোরার দিন এবার শেষ। আগামী ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে তিনদিন ব্যাপী আয়োজিত হতে চলেছে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ (JKS)। নবান্নের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি পরিষেবাকে একেবারে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
এক ছাতার নিচে সব পরিষেবা প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে এই শিবিরগুলি মূলত ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ বা ‘এক জানলা’ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এখানে শুধুমাত্র আবেদন গ্রহণই নয়, বরং অন-স্পট রেজিস্ট্রেশন, নথিপত্র যাচাইকরণ এবং যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে সরাসরি পরিষেবা তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত থাকছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য রয়েছে দ্রুত নিষ্পত্তি বা ‘গ্রিভান্স রিড্রেসাল’-এর ব্যবস্থাও।
কোথায়, কীভাবে হবে শিবির? প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক শিবিরের পরিকল্পনা করেছে সরকার:
গ্রামীণ এলাকা: প্রতি সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত পিছু একটি করে শিবির।
শহরাঞ্চল: প্রতি ১০টি ওয়ার্ড পিছু একটি করে শিবির।
পুরনিগম এলাকা: প্রতিটি বরো পিছু একটি করে বিশেষ শিবির (কলকাতা পুরনিগমে ১৬টি বরোতে ১৬টি শিবির বসবে)।
আধুনিক প্রযুক্তিতে নজরদারি পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও গতিশীল রাখতে রাজ্য সরকার একটি অত্যাধুনিক আইটি পোর্টাল চালু করছে। এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে প্রতিটি শিবিরের কাজের আপডেট, আবেদন সংখ্যা এবং পরিষেবা প্রদানের হিসাব রাখা হবে। এই পুরো অভিযানের নোডাল দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছে রাজ্যের ‘পরিকল্পনা, পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন দপ্তর’।
তদারকিতে খোদ মুখ্যসচিব প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে এই কর্মসূচি তদারকি করা হবে। রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন মুখ্যসচিব। জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে যথাক্রমে জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বিডিও-রা এই টাস্ক ফোর্সের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন। ইতিমধ্যেই সমস্ত দপ্তরে এসওপি (SOP) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে সুফল পৌঁছে দেওয়া যায়।
নবান্নের এই উদ্যোগকে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন হয়রানি কমাতে বড় ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।





