লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই যখন রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরের চোরাস্রোত নিয়ে জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই দলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে বোমা ফাটালেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি দল এবং ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। ঋতব্রতর দাবি, দলের ভেতরের দুর্নীতি নিয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল! বিধায়কের এই মন্তব্যে কার্যত চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির।
“দুর্নীতি নিয়ে চুপ থাকতে বলেছিল দল ও আইপ্যাক!”
সম্প্রতি এক জনসভায় বা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে (প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্র অনুযায়ী) কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের অভ্যন্তরে চলা বিভিন্ন দুর্নীতি ও বেনিয়ম তাঁর নজরে এসেছিল। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যখনই এই নিয়ে সরব হতে চেয়েছেন, তখনই তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ঋতব্রতর কথায়:
“দলের একাংশ এবং আইপ্যাকের পক্ষ থেকে আমাকে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, দুর্নীতি নিয়ে যেন আমি কোনো রকম মুখ না খুলি। চুপ থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।”
তীব্র গৃহদাহে ব্যাকফুটে তৃণমূল?
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋতব্রতর এই মন্তব্য শাসক দলের অন্দরের ফাটলকেই আবার প্রকাশ্যে এনে দিল। একদিকে যখন বিরোধী দলগুলো নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি নিয়ে লাগাতার আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন দলেরই একজন প্রভাবশালী বিধায়ক যদি দাবি করেন যে দল দুর্নীতি ঢাকতে চেয়েছিল, তবে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন বাড়ছে চাপ?
আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: দলের অন্দরে ভোটকুশলী সংস্থার হস্তক্ষেপ এবং বিধায়কদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের পুরনো কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ নতুন নয়। ঋতব্রতর এই বয়ান সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালল।
বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র: বিধায়কের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিকে হাতিয়ার করে আসরে নামতে দেরি করেনি বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস শিবির।
বিস্ফোরক এই দাবির পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ঋতব্রতর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, নাকি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে— এখন সেটাই দেখার।





