আর মাত্র দু’মাস বাকি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার। ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতিরই অঙ্গ হিসেবে আজ, শুক্রবার শ্রাবণের শুক্লা অষ্টমীতে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজ পরিবারের দুর্গাপূজার শুভ সূচনা হলো। এদিন সকালে কোচবিহারের ডাঙ্গরাই মন্দিরে নিষ্ঠা সহকারে ময়না কাঠের পূজা সম্পন্ন হয়।
ঐতিহ্যের ময়না কাঠ পূজা:
ময়না কাঠ পূজার পর এই পবিত্র কাঠ নিয়ে যাওয়া হবে মদনমোহন মন্দিরে। সেখানে কয়েকদিন ধরে পুজো করার পর এই ময়না কাঠ বড়দেবীর বাড়ির মন্দিরের কাঠামোতে স্থাপন করা হবে। এরপরই শুরু হবে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ। এই ময়না কাঠ পূজা কোচবিহারের দুর্গাপূজার এক অত্যন্ত প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ রীতি, যা ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পালিত হয়ে আসছে।
কোচবিহারের বড় দেবীর ইতিহাস ও বর্তমান:
কোচবিহারের বড় দেবী দুর্গাপূজা প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো। একসময় এই পুজো রাজাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো এবং তা ঘিরে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এক বিশেষ উন্মাদনা দেখা যেত। সময়ের সাথে সাথে রাজতন্ত্রের অবসান হলেও, প্রাচীন নিয়ম মেনেই আজও এই পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর আয়োজন করা হয়।
পূজার বিশেষত্ব ও নিয়মাবলী:
শ্রাবণের শুক্লা অষ্টমীতে ময়না কাঠ পূজার পর থেকেই বড় দেবীর নিত্যপূজা শুরু হয়, যা প্রতিমা তৈরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত চলে। এই পূজার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দেবী এখানে রক্তবর্ণা রূপে পূজিত হন। অন্যান্য দুর্গা প্রতিমার মতো এখানে লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী এবং কার্তিককে দেবীর পাশে দেখা যায় না। বরং, দেবীর উভয় পাশে থাকেন জয়া ও বিজয়া।
মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকে ঘট স্থাপন করে মূল পূজা শুরু হয় এবং দশমী পর্যন্ত তা চলে। অতীতে এই পূজায় নরবলির প্রচলন থাকলেও, বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ করা হয়েছে এবং তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কোচবিহারের এই রাজবাড়ির দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। এই পূজার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সাথে সাথে কোচবিহারের আকাশে যেন উৎসবের এক ভিন্ন আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।





