নির্বাচনী আবহে ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) স্ক্যানারে টলিউড অভিনেত্রী তথা বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদ নুসরত জাহান। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন তিনি। তবে একা নন, এদিন তাঁর পাশে দেখা গেল অভিনেতা যশ দাশগুপ্তকে।
দিল্লির আর্জি নাকচ, হাজিরা কলকাতায়: ইডি সূত্রে খবর, নুসরত দিল্লিতে গিয়ে হাজিরা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। শেষমেশ কলকাতার ইডি দপ্তরেই সশরীরে আসতে হয় তাঁকে। এদিন সাদা সালোয়ার-কামিজ আর চোখে সানগ্লাস পরে গাড়ি থেকে নামেন নুসরত। যশের হাত ধরে সোজা ভিতরে ঢুকে যান তিনি। সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেননি অভিনেত্রী।
অভিযোগের তির কোন দিকে? নুসরতের বিরুদ্ধে মূলত দুটি বিষয়ের ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে:
ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলা: ‘সেভেন সেন্স’ নামক একটি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজারহাটে ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেওয়া হলেও তাঁরা ফ্ল্যাট পাননি। এই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে এক সময় ছিলেন নুসরত। টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতেই আজ জিজ্ঞাসাবাদ।
গম পাচার ও রেশন দুর্নীতি: রেশন দুর্নীতির তদন্তে গম পাচারের একটি নয়া যোগসূত্র মিলেছে। অভিযোগ, বসিরহাটের সাংসদ থাকাকালীন বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে হওয়া পাচারচক্রের আর্থিক লেনদেনে অভিনেত্রীর যোগসূত্র থাকতে পারে। ইডি কর্তারা সেই সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করতে চান।
চাপে প্রাক্তন সাংসদ: এর আগেও একাধিকবার বাণিজ্যিক লেনদেনের বিষয়ে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন নুসরত। তবে এবার ফ্ল্যাট জালিয়াতি ও রেশন দুর্নীতির দু’টি পৃথক দিক নিয়ে তদন্তকারীরা তাঁকে জেরা করছেন। প্রাক্তন সাংসদ কি পারবেন ইডি-র এই তীক্ষ্ণ প্রশ্নের বাণ সামলাতে? সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে কী বয়ান দেন তিনি, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও গ্ল্যামার মহল।





