সূর্য যেন আগুন উগরাচ্ছে! এপ্রিলের শেষেই তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। উত্তর থেকে দক্ষিণ— গরমে হাঁসফাঁস করছে গোটা বাংলা। চাতক পাখির মতো সবাই এখন বৃষ্টির অপেক্ষায়। এই তীব্র দহনজ্বালা থেকে কবে মুক্তি মিলবে? বর্ষাই বা কবে ঢুকবে রাজ্যে? মৌসম ভবনের পূর্বাভাসে মিলল এক বিশেষ ইঙ্গিত।
আগুনে আবহাওয়া ও তাপপ্রবাহ: আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আপাতত তাপপ্রবাহ বা ‘লু’ (Loo) বইবে। মালদহ ও দুই দিনাজপুরেও পারদ চড়ছে পাল্লা দিয়ে। আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের অভাবে আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
বর্ষা নিয়ে বড় আপডেট: সাধারণত কেরলে বর্ষা ঢোকে ১ জুন এবং বাংলায় তা পৌঁছায় ১০-১২ জুনের আশেপাশে। তবে আবহাওয়া বিদদের মতে, এবার প্রশান্ত মহাসাগরে ‘লা নিনা’ (La Niña) সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বর্ষা কিছুটা আগেই ভারতীয় ভূখণ্ডে পা রাখতে পারে। তবে তার আগে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে কালবৈশাখী। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদে না বেরনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রচুর পরিমাণে জল, ওআরএস (ORS) এবং ডাবের জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কবে মিলবে পাকাপাকি স্বস্তি? জুন মাসের মাঝামাঝি বর্ষা না আসা পর্যন্ত গরমের এই দাপট জারি থাকবে। তবে তার মধ্যে কালবৈশাখী হলে সাময়িকভাবে পারদ কিছুটা কমতে পারে। আপাতত বৃষ্টির প্রার্থনায় দিন গুনছেন মহানগরী থেকে গ্রামবাংলার মানুষ।





