রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ত্রাণ সামগ্রী দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তাল পরিস্থিতি। দুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে না পৌঁছে পৌঁছে যাচ্ছে শাসকদলের নেতাদের ঘরে—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে পুলিশি অভিযান। অভিযানের মুখে পড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত আস্তানা, গোডাউন ও পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হচ্ছে সরকারি শাড়ি, জামাকাপড়, ত্রিপল ও রান্নার সরঞ্জাম।
সাম্প্রতিক অভিযানে সবথেকে বড় সাফল্য ধরা পড়েছে কালনায়। ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। মধ্যরাতে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় বাহিনী। দরজা বন্ধ রেখে ভেতরে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন প্রাক্তন বিধায়ক। পালানোর চেষ্টা করার সময় শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। এর আগে থেকেই এলাকার মানুষ তাঁর গ্রেফতারের দাবিতে সরব ছিলেন এবং বাড়িটি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই দেবপ্রসাদ বাগের ঘনিষ্ঠ ব্লক সভাপতি প্রণব রায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রণব রায়ের পার্টি অফিস থেকে প্রচুর পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার পরই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে এই অভিযান।
অন্যদিকে, সন্দেশখালি ২ ব্লকের দুর্গামণ্ডপ পঞ্চায়েতের প্রধান লক্ষ্মণ চক্রবর্তীকেও পুলিশ আটক করেছে। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী। অবাক করা বিষয় হলো, এই সামগ্রীগুলি তিনি তাঁর খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। শাড়ি, জামাকাপড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যা গরিব মানুষের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা উদ্ধার হয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানের ব্যক্তিগত হেফাজত থেকে।
একের পর এক ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “আইলার ত্রিপল থেকে শুরু করে বন্যার সময়কার হাঁড়িকুড়ি, ব্যারেল ব্যারেল তেল—সবই তৃণমূল নেতাদের গোডাউন ও পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হচ্ছে। এই ধরনের অপকর্ম করার জন্য শাসকদল একটি চক্র গড়ে তুলেছিল। সাধারণ মানুষের টাকা ও ত্রাণ লুঠ করার অপরাধে এই পার্টিকে নিষিদ্ধ (ব্যান) করে দেওয়া উচিত।”
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এখন সাধারণ মানুষ আর ভয় পাচ্ছেন না। ত্রাণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁরা মুখ খুলছেন, যার ফলে স্থানীয় স্তরের নেতাদের দুর্নীতির পর্দাফাঁস হচ্ছে। প্রতিটি গ্রাম থেকে এমন অভিযানের খবর সামনে আসায় অস্বস্তিতে শাসকদল। প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই সাঁড়াশি অভিযানে ত্রাণ দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা বড় বড় মাথাদের গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হচ্ছে।





