ত্রাণ চুরির চরম দুঃসাহস! তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে তল্লাশি, সরকারি সামগ্রী পাচারের অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্র বাদুড়িয়া

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকায় সরকারি ত্রাণসামগ্রী পাচারের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে সরকারি ত্রাণ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেলে, যখন গোপন সূত্রে খবর আসে যে বাদুড়িয়া পুরসভার এক কাউন্সিলর ঝুমা সরকারের বাড়িতে ত্রাণসামগ্রীর বস্তা মজুত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি উদ্যোগে পাঠানো এই ত্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে পাচার করার উদ্দেশ্যে কাউন্সিলরের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। স্থানীয় মানুষ কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে ভিড় জমান এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাদুড়িয়া থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সরকারি সামগ্রী উদ্ধারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। পুলিশি তৎপরতায় কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে সরকারি সিলমোহরযুক্ত ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেকদিন ধরেই এলাকায় ত্রাণের সামগ্রী ঠিকমতো বিলি করা হচ্ছিল না। মানুষ অভাবের মধ্যে দিন কাটালেও কাউন্সিলর নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ লুঠ করছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কাউন্সিলর ঝুমা সরকার পলাতক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ তাঁকে খোঁজার জন্য তল্লাশি শুরু করেছে। কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় বিরোধীরাও সরব হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত কয়েক মাস ধরেই তৃণমূল শাসিত এলাকায় ত্রাণ লুঠের একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হলো।

অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ত্রাণের বস্তাগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি ত্রাণ যে এভাবে সরাসরি কোনো জনপ্রতিনিধির বাড়িতে মজুত থাকবে, তা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী। ঘটনাটি জানার পর জেলাশাসক নিজেও রিপোর্ট তলব করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রাণসামগ্রী পাচার এবং চুরির ঘটনায় আগেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের নেতাদের নাম জড়িয়েছে। কিন্তু এইভাবে কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে সরাসরি সরকারি সিলমোহরযুক্ত ত্রাণ উদ্ধারের ঘটনায় জনরোষ চরম আকার ধারণ করেছে। বাদুড়িয়ার মানুষ এখন দাবি জানাচ্ছেন যে, এই ঘটনার তদন্ত যেন নিরপেক্ষভাবে হয় এবং অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো এলাকাটিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। অভিযুক্ত কাউন্সিলর কোথায় গা ঢাকা দিয়ে আছেন, তা জানতে তাঁর ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy