একের পর এক মামলার জালে জড়িয়ে পড়ছেন হুগলির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। গত ৩০ মে থেকে শুরু হওয়া তাঁর আইনি লড়াই যেন এক অন্তহীন পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং তোলাবাজির মতো অভিযোগের পর, এবার এক অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ যুক্ত হলো এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে। শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে নতুন করে জেল হেফাজতের নির্দেশ পেলেন তিনি।
শুক্রবার চুঁচুড়া আদালতে তোলা হয়েছিল অসিত মজুমদারকে। সমর্থকদের আশা ছিল, হয়তো এই দফায় জামিন পেয়ে তিনি ঘরে ফিরবেন। কিন্তু আদালতের অন্দরে চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। তোলাবাজি মামলায় চুঁচুড়ার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা এবং তৃণমূল নেতা মির্জা সানোয়ার আলি জামিন পেলেও, আইনি স্বস্তি মিলল না অসিত মজুমদারের। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্ত করা হয়েছে ২০২৩ সালের একটি পুরনো মামলা, যেখানে তাঁর ওপর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবতী।
আইনি জটিলতার এই সূত্রপাত মূলত গত ৩০ মে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় রাজপথ উত্তাল করেছিলেন অসিত মজুমদার ও তাঁর অনুগামীরা। সেই বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ধাক্কা মারার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই বিধায়ক-সহ দশজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে সাতজন জামিন পেলেও, তোলাবাজির অভিযোগ মাথায় নিয়ে জেলে থাকতে হয়েছিল অসিতবাবুকে।
শুক্রবার আদালতের রায়ের পর যখন তাঁকে ফের পুলিশি প্রহরায় জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন প্রবীণ এই নেতাকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল। আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি বলেন, “কিছু বলার ভাষা নেই। ভগবান আছে, সঠিক বিচার হবে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা রয়েছে, সব দেখবে।” আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের জন্য তাঁকে জেল হেফাজতে থাকতে হবে। আগামী ১৯ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে আদালত। এখন দেখার, ১৯ জুনের শুনানিতে তিনি মুক্তি পান নাকি তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়ে।





