বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এ টিকিট বন্টন এবং আসন নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) একটি বড় এবং কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দল-বিরোধী কার্যকলাপের জন্য বিধায়ক, প্রাক্তন বিধায়ক, প্রদেশ সভাপতি এবং মহাসচিব-সহ মোট ১০ জন নেতাকে RJD তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে। এই পদক্ষেপকে RJD নেতা তেজস্বী যাদবের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি নির্বাচনের আগে দলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চান।
বহিষ্কৃত ১০ নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম:
রাষ্ট্রীয় জনতা দল, বিহারের সভাপতি মাঙ্গানি লাল মণ্ডলের জারি করা কার্যালয় আদেশ অনুযায়ী, যে ১০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে:
শ্রী ফতেহ বাহাদুর সিং: দেহরি বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক।
শ্রী সতীশ কুমার: আরজেডি রাজ্য সহ-সভাপতি।
মো. গোলাম জিলানি ওয়ারসি: কান্তি-র প্রাক্তন বিধায়ক।
মোঃ রিয়াজুল হক রাজু: গোপালগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক।
শ্রীমতি জিপসা আনন্দ: রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, মহিলা সেল এবং জেলা পরিষদ সদস্য (ভোজপুর)।
শ্রী আমোদ কুমার মন্ডল: রাজ্য সাধারণ সম্পাদক।
দল-বিরোধী কার্যকলাপে তেজস্বীর কড়া বার্তা:
কার্যালয় আদেশে ঘোষণা করা হয়েছে যে এই বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় জনতা দল কড়া পদক্ষেপ নেবে। এই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দল-বিরোধী আচরণ, কার্যকলাপ এবং প্রতিকূল কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। দলের সূত্র অনুযায়ী, বহিষ্কৃত নেতারা হয় নিজেরা নির্দলীয় (বিদ্রোহী) হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন অথবা এমন প্রার্থীদের সমর্থন করছেন যারা RJD-র আধিকারিক প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।
ছয় বছরের জন্য বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে RJD দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো আপস করার জায়গায় নেই। এই বড় পদক্ষেপের ফলে বিহারের বেশ কয়েকটি জেলা, বিশেষ করে দেহরি, নালন্দা, গোপালগঞ্জ, কান্তি ও ভোজপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে এই বহিষ্কৃত নেতাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই পদক্ষেপ সেইসব বিদ্রোহীদের জন্য একটি পরিষ্কার বার্তা যারা টিকিট না পেয়ে দলকে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।





