দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে সাতসকালে শোরগোল। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বিরোধীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে এবার খোদ তৃণমূল বিধায়কের অন্দরমহলে পৌঁছে গেল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে বিষ্ণুপুরের দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের পৈলানের বিলাসবহুল বাড়িতে অতর্কিতে তল্লাশি চালাল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার একটি বিশেষ টিম। বিধায়কের বাড়ি ও আশপাশ এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে কী?
পুলিশ সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে একটি বিজয় মিছিলের মঞ্চ থেকে বিতর্কিত ও হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, বিধায়ক প্রকাশ্যে শান্তি বিঘ্নিত করার উস্কানি দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপির তরফে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়, বিধায়কের এই মন্তব্যে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।
সাতসকালে পুলিশি অভিযান
অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে দ্রুত তদন্তে নামে পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ যখন বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে, তখন গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। তবে তল্লাশির সময় বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন কি না, তা নিয়ে এখনও রহস্য দানা বেঁধেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশের গাড়ি পৌঁছানোর ঠিক আগেই এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান দিলীপ মণ্ডল। বর্তমানে তাঁর সঠিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “আইন শেষপর্যন্ত নিজের পথে চলতে শুরু করেছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভয় দেখানোর রাজনীতি আর চলবে না।” অন্যদিকে, এই তল্লাশি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় বা জেলা নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৈলান ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া পুলিশি টহল চলছে।





