নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই কোচবিহারে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। সাধারণ মানুষের তীব্র গণরোষ ও চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ প্রকাশ্য দিবালোকে, ভরা স্কুলমাঠে গ্রামবাসীদের ডেকে ‘কাটমানি’র টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার কোচবিহারের মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরেরকুঠি এলাকায়। জানা গিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই জনরোষের ভয়ে এলাকাছাড়া এলাকার এক দাপুটে তৃণমূল নেতা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে, নিজের ও ছেলের পিঠ বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত ওই নেতার বৃদ্ধ বাবাই ময়দানে নেমেছেন। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন।
কী অভিযোগ গ্রামবাসীদের? স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ফকিরেরকুঠি এলাকায় একপ্রকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল তৃণমূলের কিছু নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্য। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে জমি বিবাদ—সবক্ষেত্রেই চলত অবাধ তোলাবাজি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষের ওপর চলত আর্থিক জুলুম।
টাকা ফেরত পাওয়ার পর ভুক্তভোগী সুদীপ দাস বলেন, “জমি বিবাদ মেটানোর নামে আমার কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়েছিল ওই নেতা। কাজ কিছুই হয়নি। এখন ভয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছে ওরা।” নিখিল বর্মণ ও মিঠুন বর্মণ নামে দুই যুবক অভিযোগ করেন, বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই তাঁদের কাছ থেকে জোর করে এই টাকা আদায় করা হয়েছিল।
প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার হিসাব, মুখে কুলুপ নেতাদের বিজেপির মাথাভাঙা-৪ মণ্ডলের সভাপতি সুরেন্দ্র বর্মণের দাবি, “আমাদের কাছে থাকা হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চায়েত সদস্যসহ তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা কাটমানি তুলেছেন। জনরোষ আর আইনের হাত থেকে বাঁচতেই এখন তাঁরা ‘সৎ’ সাজার নাটক করছেন।”
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই বিষয়ে ক্যামেরার সামনে এখনও পর্যন্ত কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনরোষের আগুনের আঁচ বুঝেই নিজের সম্মান বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্ব।





