রাজ্যের মসনদে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় বইছে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। আর এই ক্ষমতার অদলবদল ঘটতেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা। ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গলায় শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। এই সুবিধাবাদী রাজনীতি এবং দলবদলু নেতাদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই তৃণমূলের বেশ কিছু পরিচিত মুখকে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায়। এই তালিকায় রয়েছেন দলের অন্যতম কড়া মুখপাত্র ঋজু দত্ত, ছাত্র পরিষদের দাপুটে নেতা কোহিনুর মজুমদার এবং মুখপাত্র কার্তিক ঘোষ। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁদের বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেন, ক্ষমতা হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নেতাদের “আসল চরিত্র” ফাঁস হয়ে গিয়েছে।
বিস্ফোরক ভঙ্গিতে তরুণজ্যোতি বলেন, “বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে শিরদাঁড়া লাগে। কিন্তু এদের অবস্থা অনেকটা চিংড়ি মাছের মতো—মেরুদণ্ড নেই, মাথা ভর্তি নোংরা, কিন্তু ক্ষমতার বাজারে এদের দাম ভালো পাওয়া যায়।” তাঁর অভিযোগ, যারা এতদিন ক্ষমতায় থেকে বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন এবং কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন, আজ গদি উল্টে যেতেই তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে বিজেপির কাছে ‘ভালো মানুষ’ সাজার নাটক করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতার এই পালাবদল অনেক নেতার জন্যই রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির এই কড়া মন্তব্য সেই পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। তবে আক্রমণাত্মক মেজাজের পাশাপাশি তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন। বিজেপি বিধায়কের সাফ কথা, বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কোনো তৃণমূল কর্মী বা নেতা অসুরক্ষিত থাকবেন না এবং তাঁদের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ করা অনুচিত।
কিন্তু সুবিধাবাদীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি যোগ করেন, যারা নিজের স্বার্থে নিজেদের মাতৃসম দলকেও “বিক্রি” করতে পারে, তাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না। এ ধরনের মানুষদের বিশ্বাস করা অনেকটা “সাপকে বিশ্বাস করার সমান”। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তরুণজ্যোতির এই বক্তব্য আসলে দলবদল করতে চাওয়া সুবিধাবাদী নেতাদের প্রতি বিজেপির এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি—শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে দলবদলকারীদের পদ্মশিবিরে সহজে জায়গা হবে না।





