মঙ্গলবার দুপুরের এক মর্মান্তিক ঘটনা ওলটপালট করে দিল ফুলবাড়ির অম্বিকানগর এলাকার দুটি পরিবারকে। এদিন সকালে স্কুলের গেট বন্ধ দেখে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে গজলডোবার পারামুন্ডা এলাকায় গিয়েছিল কৃষ্ণ মণ্ডল (১৪) ও দ্বীপ বিশ্বাস (১৩)। কিন্তু সেই বেড়ানোই যে জীবনের শেষ সফর হয়ে উঠবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি পরিবার। স্থানীয় বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এই দুই ছাত্রের মৃত্যুতে এখন শোকের সাগরে ভাসছে গোটা এলাকা।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে। চার বন্ধু মিলে সাইকেল নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তারা গজলডোবার পারামুন্ডা এলাকায় সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এদিন ছিল প্রচণ্ড গরম। সেই দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে চার বন্ধু তিস্তার জলে নামার পরিকল্পনা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জলে নামার পরপরই এক কিশোর গভীর স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাকে বাঁচাতে অপর এক বন্ধু জলে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতের কাছে হার মানে অদম্য সাহস। চোখের পলকেই উত্তাল তিস্তা কেড়ে নেয় দুই কিশোরের প্রাণ।
বাকি দুই বন্ধু ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং দ্রুত চিৎকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সাহায্য চায়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। খবর দেওয়া হয় ভোরের আলো থানায়। পুলিশের তৎপরতায় দীর্ঘ তল্লাশির পর উদ্ধার হয় দুই কিশোরের নিথর দেহ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শোকাতুর পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে অম্বিকানগরের আকাশ-বাতাস।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, গজলডোবা ও পারামুন্ডা এলাকাটি পর্যটন ও বিনোদনের জন্য পরিচিত হলেও, সেখানে নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই। নদীর তীরে সতর্কীকরণ বোর্ড বা নজরদারির অভাব বারবার দুর্ঘটনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে যাতে এমন আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারির অপেক্ষায় এখন গোটা অঞ্চল।





