২০২৬ সালের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই জাতীয় রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। গতকালের রেজাল্ট আউটের পর দেখা গিয়েছে, কেরলম (কেরল) ছাড়া বাকি প্রায় সব জায়গাতেই কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর ফলাফল ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Alliance) অন্দরে এক গভীর ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাহুল গান্ধীর একটি ফোন কল ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
থলপতি বিজয়কে রাহুলের ফোন: বদলাচ্ছে তামিল সমীকরণ?
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে দক্ষিণ ভারত থেকে। তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে-কে সরিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে অভিনেতা বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগম’ (TVK)। সূত্রের খবর, ফলপ্রকাশের পরেই বিজয়কে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী ডিএমকে-র হাত ছেড়ে কি তবে কংগ্রেস এবার বিজয়ের হাত ধরতে চলেছে? তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবার বিরোধী আসনে। এমতাবস্থায় স্ট্যালিনের সঙ্গ ত্যাগ করে উদীয়মান শক্তির সঙ্গে রাহুলের সখ্যতা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কেরলে বাম-কংগ্রেস সম্মুখ সমর
কেরলে ১০ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)। সেখানে বামেরা এখন বিরোধী আসনে। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় সেখানে বাম ও কংগ্রেসকে একে অপরের মুখোমুখি লড়াই করতে হবে। প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় স্তরে যেখানে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম স্তম্ভ ছিল বামেরা, সেখানে এই ফলের পর সীতারাম ইয়েচুরিরা কতটা কংগ্রেসের পাশে থাকবেন? অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিও কংগ্রেসের এই ‘দুর্বল’ পারফরম্যান্সের পর তাদের সঙ্গে জোটে থাকতে কতটা আগ্রহী হবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
মমতাকে ফোন রাহুলের, এজেন্ডায় ‘ভোট চুরি’
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভাবনীয় পরাজয়ের পর (যেখানে বিজেপি প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে) তাঁকে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। তৃণমূল সুপ্রিমোর সুরেই সুর মিলিয়ে রাহুল অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে ‘১০০টি আসন চুরি’ করা হয়েছে। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা ও রাহুল একসুরে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে হাইভোল্টেজ বৈঠক
জোটের এই নড়বড়ে অবস্থাকে সামাল দিতে আগামী সপ্তাহেই ইন্ডিয়া জোটের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল এজেন্ডাই হতে চলেছে ‘ভোট চুরি’ এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের কৌশল ঠিক করা। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও তামিলনাড়ুর হার নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে এই বৈঠকে। তবে ভাঙন রুখতে রাহুল গান্ধী বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।





