শিয়ালদহ উত্তর শাখার অন্যতম ব্যস্ত এবং দীর্ঘতম রুট শিয়ালদহ-লালগোলা সেকশনের যাত্রীদের জন্য এবার দারুণ সুখবর নিয়ে এল পূর্ব রেল। দীর্ঘ ২২০ কিলোমিটারের এই পথে যাতায়াত করতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এই দীর্ঘ যাত্রাপথের ট্রেনে যেন শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকে। যাত্রীদের সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে এবং সফরকে আরও আরামদায়ক করতে শিয়ালদহ ডিভিশন আগামী ১৪ মে, ২০২৬ তারিখ থেকে এই শাখায় অতিরিক্ত মেমু (MEMU) রেক চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আধুনিক মেমু রেক সংযোজন যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন এই পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?
শিয়ালদহ থেকে লালগোলা পর্যন্ত যাতায়াতকারী হাজার হাজার নিত্যযাত্রী, বিশেষ করে মহিলা, শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকরা দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে শৌচাগার না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হতেন। সাধারণ ইএমইউ (EMU) রেকে শৌচাগার থাকে না, কিন্তু নতুন মেমু রেকে শৌচাগার এবং উন্নত আসন ব্যবস্থা থাকায় যাত্রীরা এখন অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে যাতায়াত করতে পারবেন।
ট্রেন পরিষেবার সংখ্যায় বড় লাফ
শিয়ালদহ ডিভিশন জানিয়েছে, আগে এই শাখায় মেমু পরিষেবার সংখ্যা ছিল নগণ্য। কিন্তু নতুন রেক যুক্ত হওয়ার ফলে শিয়ালদহ ও লালগোলার মধ্যে মেমু ট্রেনের সংখ্যা ১ থেকে বেড়ে ৬-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ট্রেনগুলি হলো—
৬৩১০৫/৬৩১০৪
৬৩১০৭/৬৩১০৬
৬৩১৭৭/৬৩১০৮
এছাড়াও শিয়ালদহ-লালগোলা মেমু প্যাসেঞ্জার, যা আগে ইএমইউ রেকে চলত, সেটিও এখন আধুনিক মেমু রেকে রূপান্তরিত হচ্ছে।
রানাঘাট শাখাতেও বাড়তি সুবিধা
কেবল লালগোলা নয়, রানাঘাট পর্যন্ত যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য নতুন ৬৩১১১ শিয়ালদহ-রানাঘাট মেমু প্যাসেঞ্জার পরিষেবা চালু করা হয়েছে। রানাঘাট-লালগোলা শাখায় ৬৩১৩৩/৬৩১৩৪ ট্রেনের মাধ্যমে মেমু পরিষেবার সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা স্টেশন-লালগোলা ৬৩১০১/৬৩১০২ পরিষেবাটি সাময়িকভাবে ইএমইউ রেক দিয়ে চালানো হবে, যাতে মেমু রেকগুলিকে অন্যান্য দীর্ঘ রুটে সঠিকভাবে ব্যবহার করে সামগ্রিক যাত্রী পরিষেবা বাড়ানো যায়।
ডিআরএম-এর বক্তব্য
শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম শ্রী রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, “এই কৌশলগত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।” উন্নত প্রযুক্তির ইসিইউ (ECU) এবং আধুনিক কোচের মাধ্যমে প্রতিদিনের হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণকে আরও সহজ করে তুলতে শিয়ালদহ ডিভিশন বদ্ধপরিকর। রেলের এই পদক্ষেপে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েক লক্ষ যাত্রী সরাসরি উপকৃত হবেন।





