ফলের রাজা আমে বিশ্বে ভারতের কোনো জুড়ি নেই। দেশীয় আমের মিষ্টি সুবাসে মাতোয়ারা এখন বিশ্ববাজার। সম্প্রতি জাপানের বাজারে রপ্তানি করা ভারতীয় আমের কিছু চালানে ফিউমিগেশন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তা আটকে দেওয়া হলেও, সেই একই মানের আমের কদর বেড়েছে সিঙ্গাপুরের সুপারমার্কেটগুলোতে। ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে পৌঁছানো মাত্রই আলফনসো, কেশর ও ল্যাংড়ার মতো উৎকৃষ্ট জাতের আম মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানচিত্রে ভারতের কৃষি রপ্তানি এক শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। এপেক্স বডি অ্যাপেডা (APEDA)-এর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে শুধুমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ভারত প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা মূল্যের ১২,৮৯৭ মেট্রিক টনেরও বেশি আম রপ্তানি করেছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কাতার ও কুয়েতের মতো উন্নত বাজারেও ভারতীয় আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ভারতে রেকর্ড ২২৮.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, বিহার ও কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলোতে আম চাষ এখন কৃষকদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। আলফনসো, বাণগনপল্লী, তোতাপুরি ও মল্লিকার মতো অনন্য সব জাত বিশ্বজুড়ে ভারতীয় কৃষি রপ্তানির গৌরব বাড়িয়ে চলেছে। রপ্তানি বাজারের বাইরেও অভ্যন্তরীণ বাজারে আমের বাম্পার ফলনে কৃষকরা দেখছেন মুনাফার মুখ, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।





