উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার কি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় (Burdwan University) ক্যাম্পাসে ভূতের আতঙ্ক? বৃহস্পতিবার রাতে (যে রাতে হ্যালোইন পালিত হয়) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে ঘটে যাওয়া এক রহস্যজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাংলোর কাছে অদ্ভুত আওয়াজ শোনা যায়। একইসঙ্গে আবাসনের বাইরের বাতিস্তম্ভগুলির আলোও হঠাৎ করে নিভে যায় এবং পরক্ষণেই জ্বলে ওঠে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকে।
👻 উপাচার্যের ‘ভূত, ভূত’ চিৎকার!
জানা গেছে, এই সময় বাংলোয় থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা কিছু একটি ‘বিশেষ জিনিস’ দেখতে পান। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, স্বয়ং উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথও নাকি সেই ‘বিশেষ কিছু’ দেখে ভয় পেয়ে যান। সূত্রের দাবি, একসময় তিনি ‘ভূত, ভূত’ বলে চিৎকারও করে ওঠেন!
উপাচার্যের চিৎকার শুনেই নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন। এরপর গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে কীসের আওয়াজ হচ্ছে, তা নিয়ে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। কিন্তু বিস্তর খোঁজাখুঁজির পরেও সেই অদ্ভুত আওয়াজের কোনো উৎস বা কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
🗣️ যা বললেন উপাচার্য
এ বিষয়ে উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ অবশ্য সরাসরি ‘ভূত’ বা ‘অশরীরী’র কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, “কোনও কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষীদের ডেকে পাঠিয়েছিলাম। পরে সমস্যা মিটে গিয়েছে।” যদিও কীসের সমস্যা, তা তিনি স্পষ্ট করে জানাননি।
তবে উপাচার্যের আবাসন চত্বরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ভূতের উৎপাত শুরু হয়েছে’ বলে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
🐍 জঙ্গল ও গোখরো উদ্ধারের পর আরও আতঙ্ক
বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা শুক্রবার সকালে এসে উপাচার্যের আবাসন চত্বরের বিদ্যুতের লাইন খতিয়ে দেখেন এবং সমস্ত আলো মেরামতের কাজ করে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আবাসনের চারপাশে অতিরিক্ত আলোরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ফটক ও ছাত্র আবাসনগুলির চারপাশে বড় জঙ্গল তৈরি হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে এমনিতেই প্রশ্ন ছিল। এর আগে বুধবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক গোখরো উদ্ধার হয়েছিল। তারই মধ্যে ‘ভূতের ভয়ে’র এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।