খুন নাকি আত্মহত্যা? প্রাক্তন সুন্দরী ত্বিষা শর্মার মৃত্যু রহস্যে পুলিশের বড় বয়ান, গায়েব ফাঁসের বেল্ট!

প্রাক্তন ‘মিস পুনে’ ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই জমাট বাঁধছে রহস্য। একদিকে যখন ত্বিষার পরিবার একে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে দাবি করছে, ঠিক তখনই ভোপাল পুলিশ প্রশাসনের এক চাঞ্চল্যকর বয়ানে এই মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়েছে। ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত পাওয়া সমস্ত তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী ত্বিষার মৃত্যু খুন নয়, বরং ‘আত্মহত্যা’ বলেই প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে।

শাশুড়ির ‘মাদক’ তত্ত্ব ওড়াল পুলিশ

গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মামলায় সবচেয়ে বিতর্কিত দাবিটি করেছিলেন ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালা সিং, যিনি নিজে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। গিরিবালা সিংয়ের অভিযোগ ছিল, ত্বিষা নাকি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগতেন এবং গর্ভাবস্থাতেও নিয়মিত মাদক সেবন করতেন।

সংবাদসংস্থা NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার এই মাদক তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, “এইমসের (AIIMS) ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ত্বিষার শরীরে কোনও ধরনের মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি। তদন্তেও শাশুড়ির এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

“পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনাই বলে মনে হচ্ছে। এটি একটি ‘অ্যান্টি-মর্টেম হ্যাঙ্গিং’ (Anti-mortem Hanging)-এর মামলা। অর্থাৎ, মৃত্যুর আগেই গলায় ফাঁস লেগেছিল। শরীরে অন্য কোনও ধস্তাধস্তি বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি যা সরাসরি খুনের ইঙ্গিত দেয়।” — সঞ্জয় কুমার, পুলিশ কমিশনার, ভোপাল

তদন্তে পুলিশের বড়সড় গাফিলতি! গায়েব ফাঁসের বেল্ট?

তদন্তের মাঝেই ভোপাল পুলিশের এক চরম গাফিলতির বিষয় সামনে এসেছে। AIIMS ভোপালের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যে বেল্টটি দিয়ে ত্বিষা গলায় ফাঁস দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি প্রথমে তদন্তকারী অফিসার পোস্টমর্টেম টেবিলে ব্যবচ্ছেদকারী চিকিৎসকদের সামনে জমা দেননি! একটি হাইপ্রোফাইল মামলায় এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ আড়াল করার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরে পুলিশ কমিশনারও স্বীকার করেন যে এটি একটি বড় ‘ল্যাপস’ বা ত্রুটি ছিল এবং এই গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পণের দাবিতে অত্যাচার, পলাতক স্বামী

ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাতেন তাঁর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিং। প্রভাবশালী শাশুড়ির কারণে ভোপাল পুলিশের তদন্তের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না পরিবার। তাঁরা এবার AIIMS দিল্লিতে পুনরায় দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করানোর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং বেপাত্তা। আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছে। সমর্থকে গ্রেফতার করতে ৬টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং তাঁর হদিশ দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভোপাল পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy