হিন্দু ধর্মে প্রতিটি তিথির গুরুত্ব থাকলেও একাদশী তিথির মহিমা একেবারেই অনন্য। শাস্ত্র মতে, প্রতিটি একাদশীই ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়, তবে জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘অপরা একাদশী’র গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করলে মানুষ কেবল এই জন্মের নয়, বরং পূর্বজন্মের করা সমস্ত ঘোরতর পাপ থেকেও মুক্তি পেতে পারে। ২০২৬ সালে এই অপরা একাদশী কবে এবং কীভাবে পালন করলে আপনি অক্ষয় পুণ্য লাভ করবেন, তা বিস্তারিত জানানো হলো।
অপরা একাদশী ২০২৬: দিনক্ষণ ও শুভ মুহূর্ত
পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি শুরু হচ্ছে ১২ মে, মঙ্গলবার দুপুর ২টো ৫২ মিনিটে। এই তিথি স্থায়ী হবে পরদিন অর্থাৎ ১৩ মে, বুধবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। হিন্দু ধর্মে উদয়া তিথি পালনের রীতি থাকায়, অপরা একাদশীর প্রধান ব্রত ও উপবাস পালন করা হবে ১৩ মে ২০২৬, বুধবার।
ব্রত পারণের সময়
যেকোনো ব্রত পালনের মতোই একাদশীর পারণ বা উপবাস ভঙ্গের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। অপরা একাদশী ব্রতর পারণ করতে হবে পরের দিন, অর্থাৎ ১৪ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ওই দিন সকালে ৫টা ৩১ মিনিট থেকে ৮টা ১৪ মিনিটের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ করা শাস্ত্রসম্মত ও শুভ বলে বিবেচিত হয়।
অপরা একাদশীর মাহাত্ম্য
ধর্মীয় গ্রন্থ অনুসারে, ‘অপরা’ শব্দের অর্থ হলো অফুরন্ত বা যার কোনো সীমা নেই। অর্থাৎ এই ব্রত পালন করলে ভক্ত যে পরিমাণ পুণ্য অর্জন করেন, তার কোনো সীমা থাকে না। কথিত আছে, অপরা একাদশী পালন করলে বারাণসীতে স্নান, পিণ্ডদান কিংবা অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সমান ফল লাভ হয়। এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি মা লক্ষ্মীর আরাধনা করলে ঘরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে এবং আর্থিক সংকট দূর হয়।
পুণ্য লাভের সহজ উপায়
১. এই দিন ভোরে স্নান সেরে হলুদ বস্ত্র পরিধান করুন এবং ভগবান বিষ্ণুর ছবির সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।
২. শ্রীহরিকে অবশ্যই হলুদ ফুল, ঋতুফল এবং তুলসী পাতা অর্পণ করুন। মনে রাখবেন, তুলসী ছাড়া বিষ্ণুর পুজো অপূর্ণ।
৩. দিনভর ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করুন।
৪. সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী মানুষকে অন্য বা বস্ত্র দান করুন। একাদশীর দিন দানের গুরুত্ব অন্যান্য দিনের চেয়ে বহুগুণ বেশি।





