কেন প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় হ্যালোইন? জানুন প্রাচীন কেল্টিক উৎসব ‘সৌভেন’ এবং ‘ট্রিক-অর-ট্রিটিং’-এর ইতিহাস

প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর সারা বিশ্বে পালিত হয় হ্যালোইন উৎসব। আজ এই উৎসব আলো, মিষ্টি এবং আনন্দে ভরা এক মজাদার ইভেন্ট হলেও, এর শিকড় প্রাচীন কেলটিক সংস্কৃতি এবং খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের গভীরে নিহিত। এটি কেবল একদিনের উদযাপন নয়, বরং শতাব্দী প্রাচীন বিশ্বাস ও সংস্কৃতির মিশ্রণের এক আকর্ষণীয় ফলাফল।

কেলটিক উৎসব ‘সৌভেন’ থেকে উৎপত্তি:

প্রায় ২০০০ বছর আগে বর্তমান আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর ফ্রান্সে বসবাসকারী প্রাচীন সেল্টিক জনগণের মধ্যে ‘সৌভেন’ (Samhain) নামক একটি উৎসবের মাধ্যমে হ্যালোইনের উৎপত্তি হয়েছিল। সেল্টরা ১ নভেম্বর তাঁদের নববর্ষ উদযাপন করত, যা গ্রীষ্মের সমাপ্তি এবং শীতের (মৃত্যুর মরসুম) শুরু চিহ্নিত করত।

সেল্টিক বিশ্বাস অনুসারে, এই রাতে জীবিত ও মৃতদের জগতের সীমারেখা বিলীন হয়ে যেত। কেবল পূর্বপুরুষদের আত্মাই নয়, মন্দ আত্মারাও পৃথিবীতে বিচরণ করত। এই আত্মাদের শান্ত এবং ভীত করার জন্য মানুষ অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে পশু বলি দিত। লোকেরা মুখোশ এবং পশুর চামড়া পরে নিজেদের ছদ্মবেশ ধারণ করত, যাতে আত্মারা তাদের চিনতে না পারে। এখান থেকেই ‘ট্রিক-অর-ট্রিটিং’ এবং বিভিন্ন পোশাক পরার ঐতিহ্যের উৎপত্তি।

খ্রিস্টীয় প্রভাব: ‘অল হ্যালোস ইভ’:

অষ্টম শতাব্দীতে, পোপ গ্রেগরি তৃতীয় ১ নভেম্বরকে ‘অল সেন্টস ডে’ হিসাবে উৎসর্গ করেন, যখন খ্রিস্টীয় সাধুদের স্মরণ করা হত। এই পবিত্র দিনের আগের সন্ধ্যা, ৩১ অক্টোবর, ‘অল হ্যালোস ইভ’ বা ‘হ্যালোস ইভ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এই নামটিই পরিবর্তিত হয়ে ‘হ্যালোইন’ হয়ে যায়। খ্রিস্টীয় বিশ্বাসগুলি ‘সৌভেন’-এর কিছু ঐতিহ্যকে গ্রহণ করে, যা একটি অনন্য উদযাপনের জন্ম দেয়।

আমেরিকায় ‘জ্যাক-ও’-ল্যান্টার্ন’:

১৯ শতকে আইরিশ অভিবাসীরা তাদের সঙ্গে হ্যালোইন ঐতিহ্য নিয়ে আসেন। আমেরিকায় এই উৎসব একটি নতুন, আরও সাম্প্রদায়িক এবং মজাদার রূপ ধারণ করে। সেখানেই ‘ট্রিক-অর-ট্রিট’ প্রথাটি বিকশিত হয়, যেখানে শিশুরা মিষ্টি চাইতে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যায়।

এখানেই কুমড়ো বের করে মুখ খোদাই করে ভেতরে মোমবাতি জ্বালানোর (জ্যাক-ও’-ল্যান্টার্ন) ঐতিহ্য শুরু হয়। যদিও মূলত আয়ারল্যান্ডে শালগম ব্যবহার করা হত, কিন্তু আমেরিকায় কুমড়োর প্রাচুর্য এই পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করে।

আজকের দিনে, হ্যালোইন তার ধর্মীয় বা কুসংস্কারের দিকটি অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে এবং এটি একটি সাংস্কৃতিক, বিনোদনমূলক উদযাপনে পরিণত হয়েছে। এটি ভীতিকর গল্প বলা, অদ্ভুত পোশাক পরা এবং মজা করার দিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy