বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন প্রবল আলোড়ন, ঠিক তখনই মেজাজি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পদত্যাগ নিয়ে যে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছিল, তা এক ঝটকায় উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন— “কেন পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি, আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে!”
এবারের ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। কিন্তু পরাজয় স্বীকার করা তো দূর, উল্টে এই ফলাফলের নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র বা কারচুপির ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, মানুষের রায় তাঁদের পক্ষেই ছিল, কিন্তু কৌশলে সেই রায়কে বদলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি ক্ষমতার মোহে লড়েন না। তাঁর কথায়, “আমি ক্ষমতার মায়া ত্যাগ করে ফের রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই এই লড়াই চালিয়ে যাব।” পদত্যাগের প্রশ্ন ওঠায় তিনি রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, যাঁরা ভেবেছিলেন তিনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। বরং আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, গণনার ক্ষেত্রে কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে। যদিও বিরোধীরা একে হারের পর ‘অজুহাত’ বলে কটাক্ষ করেছে। কিন্তু মমতার এই ‘রাস্তায় নামার’ ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার তাঁর পুরনো ‘স্ট্রিট ফাইটার’ ইমেজে ফিরতে চাইছেন। এখন দেখার, তৃণমূলের এই পথে নামার সিদ্ধান্ত বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে কোনো নতুন মোড় নিয়ে আসে কি না। তবে নেত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী সুর দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





