তিলজলা কাণ্ড, পুর-সচিবের বদলি এবং মেয়রের ছবি উধাও হওয়ার নাটকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতা পুরসভার (KMC) অন্দরে এক নতুন মেগা বিতর্ক! উত্তর কলকাতার অন্যতম হাইপ্রোফাইল এবং বিখ্যাত দুর্গাপুজো কমিটি ‘টালা প্রত্যয়’ (Tala Prattoy)-এর বিরুদ্ধে এবার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাদাগিরির গুরুতর অভিযোগ উঠল। আর এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন অন্য কেউ নন, খোদ এক প্রভাবশালী বিধায়ক। বৃহস্পতিবার সরাসরি কলকাতা পুরনিগমে গিয়ে পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুর-প্রশাসনে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
‘পুজো শেষ, তবু রাস্তা ও মাঠ দখল কেন?’ বিধায়কের তোপ
কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে বিধায়ক অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর মাসের পর মাস কেটে গেলেও ‘টালা প্রত্যয়’ পুজো কমিটি এলাকার সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত মাঠ এবং সামনের প্রধান রাস্তাটি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, পুজো শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে মণ্ডপ খুলে রাস্তা ও মাঠ সাধারণ মানুষের জন্য পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা। কিন্তু এই পুজো কমিটির ক্ষেত্রে সেই নিয়মের তোয়াক্কাই করা হয়নি। বিধায়কের প্রশ্ন— “একটা পুজো কমিটি কীভাবে দিনের পর দিন সরকারি মাঠ এবং রাস্তা আটকে রাখতে পারে? কার হাত মাথায় থাকায় এত বড় দাদাগিরি করার সাহস পাচ্ছে তারা?”
সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি, ক্ষুব্ধ পুর-প্রশাসন
স্থানীয় সূত্রের খবর, মাসের পর মাস মণ্ডপের কাঠামো এবং বাঁশ-কাঠ দিয়ে রাস্তা ও মাঠ আটকে রাখায় ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা মাঠ ব্যবহার করতে পারছেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘টালা প্রত্যয়’ বরাবরই রাজ্যের শাসকদলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং হেভিওয়েট পুজো হিসেবে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে এই পুজোর উদ্বোধন থেকে শুরু করে ইউনেস্কোর প্রিভিউ শো— সব কিছুতেই এই পুজোর একচ্ছত্র দাপট দেখা গিয়েছে। আর সেই ‘ক্ষমতার দাপট’ ব্যবহার করেই সাধারণ মানুষকে এভাবে ভোগান্তির শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
কমিশনারের কড়া নির্দেশ: বিধায়কের এই বিস্ফোরক অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে পুর-প্রশাসন। কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত রাস্তা ও মাঠ দখলমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই পুজো কমিটির বিরুদ্ধে খোদ বিধায়কের এই ক্ষোভ এবং ‘কার হাত মাথায় ছিল’ এমন মন্তব্য যে আগামী দিনে পুরসভার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, কমিশনারের নির্দেশের পর ‘টালা প্রত্যয়’-এর এই মণ্ডপের কাঠামো সরানো হয় কি না।





