দুর্গাপুজো দোরগোড়ায়, আর কলকাতার বাতাসে উৎসবের উন্মাদনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে ক্লাবপিছু ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করে পুজোকে আরও জমিয়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু এবারের পুজোয় এক নতুন বিতর্ক জন্ম নিয়েছে: মহালয়ার আগে প্রতিমা দর্শনের জন্য এবার দর্শনার্থীদের গাঁটের কড়ি খরচ করতে হতে পারে!
সাধারণত, কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই ষষ্ঠী থেকে বিজয়া পর্যন্ত শহরের রাজপথে জনস্রোত। আট থেকে আশি, সকলেই ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন। এই জনজোয়ার এড়াতে অনেকেই মহালয়ার আগেই, অর্থাৎ দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগেই ফাঁকা মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে পছন্দ করেন। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে কলকাতার তিনটি নামকরা পুজো কমিটি এবার ‘টিকিট সিস্টেম’ চালু করেছে, যা পুজোর সর্বজনীনতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কোন পুজো মণ্ডপগুলিতে টিকিট লাগবে?
বালিগঞ্জ কালচারাল, দমদম পার্ক ভারতচক্র এবং কেন্দুয়া শান্তি সংঘ – এই তিনটি পুজো মণ্ডপেই মহালয়ার আগে ঠাকুর দেখার জন্য টিকিট কাটতে হবে। কাকতালীয়ভাবে, এই তিনটি পুজোরই শিল্পী হলেন সুশান্ত শিবানী পাল। এই টিকিট সিস্টেমে দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে, যা টিকিটের গায়েই উল্লেখ থাকবে, যাতে মণ্ডপের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই বছর থেকেই কার্যত কলকাতায় টিকিট কেটে ঠাকুর দেখার চল শুরু হলো।
টিকিটের দাম ও সময়সূচী:
আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর মহালয়া। তার আগে অর্থাৎ ১৯, ২০ এবং ২১শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত টিকিট কেটে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন। টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ:
১ জনের জন্য: ১০০ টাকা
২ জনের জন্য: ১৫০ টাকা
৩ জনের জন্য: ২০০ টাকা
৪ জনের জন্য: ৩০০ টাকা
এই টিকিটগুলি অনলাইনেও কাটা যাবে।
বিতর্কের ঝড়:
এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে শহরজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল মনে করছেন, যখন বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে প্রবেশাধিকারের জন্য টিকিট কাটা হয়, তখন বাংলার দুর্গাপূজোতে কেন নয়? শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল আশ্বস্ত করে বলেছেন, “বাংলার পুজো সর্বজনীনই থাকছে। মহালয়ার পর সবাই এমনিই ঠাকুর দেখতে পারবেন।” অর্থাৎ, এই টিকিট সিস্টেম শুধুমাত্র মহালয়ার পূর্ববর্তী ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
তবে, এই উদ্যোগের বিরোধিতাও কম নয়। শহরের আরেক পরিচিত পুজো উদ্যোক্তা সজল ঘোষ বলেন, “পুজোর বারোয়ারি এতে নষ্ট হয়ে যাবে। এটি একটি বিভেদ সৃষ্টি করবে।” তাঁর মতে, পুজো সর্বজনীন, এবং সকলের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকা উচিত। টিকিট ব্যবস্থা পুজোর ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ধারণাকে ব্যাহত করতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, এই নতুন ‘টিকিট কেটে ঠাকুর দেখা’ ব্যবস্থা কলকাতার দুর্গাপূজার চিরাচরিত রূপে কতটা পরিবর্তন আনে এবং এটি দর্শনার্থীদের দ্বারা কতটা গৃহীত হয়।





