বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়ের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে তিনি এবার হারের দায় সরাসরি কমিশনের ওপর চাপিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন। তাঁর সাফ দাবি, “নির্বাচন কমিশনই এই খেলার আসল ভিলেন। আমাদের অন্তত ১০০টি আসন পরিকল্পিতভাবে লুঠ করে নেওয়া হয়েছে।”
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে আক্রমণের সুর চড়ান। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস হারেনি, বরং কৌশলে তাদের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “অনেক কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীরা জয়ী হওয়া সত্ত্বেও অদ্ভুতভাবে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশনের একাংশের যোগসাজশে এই জালিয়াতি চলেছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন যে, গণনার সময় পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক। ইভিএম কারচুপি থেকে শুরু করে পুনর্গণনার আবেদন নাকচ করা—সব মিলিয়ে একটি সুপরিকল্পিত চিত্রনাট্য মেনে তাদের হারানো হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনগণের রায় এভাবে লুঠ করা যায় না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও এর বিচার হবে।”
তৃণমূল শিবিরের এই ‘ভিলেন’ তকমা নিয়ে ইতিমধ্য়েই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অন্যদিকে, জয়ী পক্ষ মমতার এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘পরাজিতের আর্তনাদ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
আপাতত ১০০টি আসন লুঠের এই চাঞ্চল্যকর দাবি বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনো আন্দোলনের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে নেত্রীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি এই ফলাফলকে সহজে মেনে নিচ্ছেন না।





