জাতীয় রাজনীতিতে এখন সবথেকে চর্চিত বিষয়—ভেঙে যাওয়া দলগুলো কি ফের কংগ্রেসে ফিরছে? গত কয়েকদিন ধরে দিল্লি থেকে কলকাতা, রাজনৈতিক অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি (এনসিপি-এসপি) নাকি কংগ্রেসে বিলীন হওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছে। যদিও এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল তৃণমূলের সঙ্গে এক হওয়ার জল্পনাকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে এবং অশোক গেহলটের মন্তব্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
নানা পাটোলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে এক হওয়ার জন্য সমমনা দলগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, শরদ পাওয়ার নিজেই কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাটোলির কথায়, ‘‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোট বিভাজন রুখতে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দলকে এক ছাতার তলায় আসতে হবে। তৃণমূল হোক বা পাওয়ার সাহেব, সকলেই কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’’ একইভাবে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতও মত দিয়েছেন, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যারা আঞ্চলিক দল তৈরি করেছিলেন, তাদের ফের কংগ্রেসে ফিরে আসা উচিত। রাউতের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে প্রবীণ নেতা অশোক গেহলট রাহুল গান্ধীকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শরদ পাওয়ারের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে একে ‘ভালো প্রস্তাব’ বলে মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল এবং এনসিপি—উভয় দলই কংগ্রেসের শাখা থেকে তৈরি হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে এবং শরদ পাওয়ার ১৯৯৯ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে নিজস্ব দল গঠন করেন। কিন্তু বর্তমানে উভয় দলের অভ্যন্তরেই চরম অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের ক্ষেত্রে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির এবং সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের পদত্যাগ দলের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে।
বিপরীত দিকে, এনসিপি-র ভাঙন ও অজিত পাওয়ারের দল দখলের ঘটনা শরদ পাওয়ারকে কোণঠাসা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মমতা ও পাওয়ারের কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা নিছক গুজব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকের মতে, নিজের দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়া নেত্রীরা কি শেষমেশ সেই পুরনো ‘অখণ্ড কংগ্রেস’-এর ছায়াতেই আশ্রয় নেবেন? নাকি এটি কেবল ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শনের একটি নতুন কৌশল? সেই উত্তর পাওয়ার জন্য এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। তবে এটি স্পষ্ট যে, রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্রে রেখে এক শক্তিশালী কংগ্রেস গঠনের এই উদ্যোগ ভারতীয় রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।





